বাংলাদেশে প্রায় ৪০,০০০ অন্ধ শিশু রয়েছে, যাদের মধ্যে ১২,০০০ এর অধিক শিশু সুবিধাবঞ্চিত, ছানি অপারেশন না করার কারণে অন্ধত্ববরণ করে, আই কেয়ার প্রজেক্ট -এমএসএস তার স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে সেই সকল শিশুদের নিকট পৌঁছে তাদের দৃষ্টি আনতে বদ্ধপরিকর- এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মানবিক সাহায্য সংস্থার (এমএসএস) সভাপতি ফিরোজ এ হাসান। তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্যতার জন্য কেউ অন্ধ রবে না।
মানবিক সাহায্য সংস্থার আই কেয়ার প্রজেক্ট এর স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে স্বল্প, ক্ষীণ দৃষ্টি ও অন্যান্য চক্ষু রোগী শনাক্তকরণ, চশমা, ওষুধ, সু-চিকিত্সা প্রদান, শনাক্তকৃত রোগীদের রেফারেল সুবিধাপ্রদান এবং ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে মৌলিক চক্ষুসেবা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ। এই কার্যক্রমের আওতায় আই কেয়ার প্রজেক্ট-এমএসএস এর চক্ষুসেবা দল, দক্ষ চক্ষুচিকিত্সক ও টেকনিশিয়ান এবং প্রয়োজনীয় চক্ষু পরীক্ষার যন্ত্রপাতির সহযোগিতায় শিশুদের চক্ষু পরীক্ষা, বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা দেয়া হয়। পাশাপাশি ক্লাসে ফ্লায়ার, পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করে সচেতনতামূলক তথ্য উপস্থাপন করা হয় এবং এগুলো যেন তারা তাদের পরিবারের সবাইকে জানাতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে সবার মাঝে ফ্লায়ার বিতরণ করা হয়। স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে আই কেয়ার প্রজেক্ট -এমএসএস সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব দূরীকরণে কাজ করছে।
আই কেয়ার প্রজেক্ট-এমএসএস ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে তার স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম শুরু করে। এই কার্যক্রমের আওতায় শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৬টি স্কুলে মোট ৬০১০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষার্থীদের চক্ষু পরীক্ষা করানো সম্ভব হয়েছে। যাদের মধ্যে ২০০ জনকে বিনামূল্যে চশমা ও ২০৪ জনকে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আই কেয়ার প্রজেক্ট এর সম্মানিত দাতা সদস্যদের আর্থিক সহায়তায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তা অব্যাহত আছে। বলাবাহুল্য যে, এর মধ্যে ৫টি স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম বাস্তবায়িত হয়েছে সম্মানিত দাতা ইউএই- বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি এবং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এসএম আকবরের আর্থিক সহায়তায় এবং ১টি বাস্তবায়িত হয়েছে সম্মানিত দাতা সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্টে কর্নেল শহীদ আহমেদ এর সহায়তায়।
