দাউদকান্দির কানড়া থেকে দশপাড়া পর্যন্ত সড়ক বেহাল

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৮

২৭ বছর সংস্কার হয়নি

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের অভাবে কুমিল্লার দাউদকান্দির কানড়া থেকে দশপাড়া পর্যন্ত সড়কে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির পিচ, ইট-সুরকি উঠে বিভিন্ন স্থানে এখন ছোটো বড়ো গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি ময়লা ও কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে যায়। বছরের অধিকাংশ সময় এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অবিলম্বে সড়কটি সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এই দাবিতে ইতিপূর্বে তারা মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন।

জানা যায়, ১৯৯২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দাউদকান্দি কর্তৃক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের ৩ কিলোমিটার অংশ পাকা করা হয়। এরপর ২৭ বছর ধরে এই সড়কে আর সংস্কার কাজ হয়নি। এই সড়ক দিয়ে উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের কানড়া, জায়গীর, চন্ডিপাশা, রাঙ্গাশিমুলিয়া, চারপাড়া, সাতপাড়া, বেকীসাতপাড়া ও ইছাপুর গ্রামের শত শত মানুষ ছাড়াও জায়গীর কামিল মাদ্রাসা, দশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুন্দলপুর উচ্চবিদ্যালয়, গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চবিদ্যালয়, গৌরীপুর বিলকিস মোশাররফ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, গৌরীপুর সরকারি কলেজ, গৌরীপুর আকবর আলী খান কারিগরি বাণিজ্যিক কলেজ, গৌরীপুর অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চারপাড়া আল-আজহার স্ট্যান্ডার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন।

স্থানীয় এলাকার শিক্ষক আবদুল হান্নান, ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ, কৃষক আবদুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন জানান, সামান্য বৃষ্টি হলে এ সড়কের গর্তে পানি আটকে নর্দমা আর কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। তখন এই সড়কে রিকশা, অটোরিকশাসহ যে কোনো যানবাহন চলাচল দুরূহ হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের কষ্টের সীমা থাকে না। কাদায় ভরা এই সড়ক দিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। অনেক সময় গাড়ি মেলে না। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ি পাওয়া যায় না।

বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদার বলেন, ১৯৯২ সালে নির্মিত সড়কটিতে এ পর্যন্ত সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলে এই সড়কের ইছাপুর এবং কানড়া হয়ে মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা দাউদকান্দি টোল প্লাজা পর্যন্ত চলাচল করত। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেলও চলাচল করতে পারে না। এ অবস্থায় আটটি গ্রামের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোগী ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার হাজারও মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলীকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

এলজিইডি দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহসান আলী বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে গত বছর তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দের অভাবে কাজটি এখনো শুরু করা যাচ্ছে না। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।