ইত্তেফাক রিপোর্ট
এশিয়ার দেশ ফিলিপাইন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে। এ লক্ষ্যে দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করছে। উভয় দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে খুব বেশি না হলেও তা বাড়ানোর সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করছেন উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতারা। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার প্রতিনিধিদল রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। সেমিনারে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহকারী পরিচালক এগনেস পারপেচুয়া লেগাসপির নেতৃত্বে কৃষি ও শাকসবজি, চা, পানীয়, ওষুধ, প্রসাধনী এবং প্যাকেজিং মেশিনারিজ খাতের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেন।
সেমিনারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এদেশের বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরে ফিলিপাইনের শিল্পোদ্যোক্তাদের এদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া উভয় দেশের মধ্যকার বাণিজ্য উন্নয়নে ঢাকা ও ম্যানিলার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন, মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর, সিঙ্গেল কান্ট্রি ফেয়ার আয়োজন এবং বাণিজ্য প্রতিনিধিদল আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অন্যদিকে ফিলিপাইন থেকে বাংলাদেশে আরো পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের সেখানে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য উত্পাদন, প্যাকেজিং, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নে ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি তৈরি পোশাক, ওষুধ ও সিরামিক খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য ফিলিপাইনের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে ফিলিপাইনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লি মার্কো সি ভিদাল বলেন, ফিলিপাইন বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী। এছাড়া ফিলিপাইনের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
ফিলিপাইনের কমার্শিয়াল এটাচি জেরিমায়া সি রাইয়েদ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন।
ফিলিপাইন থেকে ইলেকট্রনিকস, হোম ডেকো ফার্নিচার, ফ্যাশন, জুয়েলারি, হালাল খাদ্য এবং অর্গানিক প্রসাধনী আমদানির প্রস্তাব দেওয়া হয় দেশটির পক্ষ থেকে। এ সময় জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফিলিপাইনের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। এ সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ফিলিপাইনে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৫ মিলিয়ন ডলার।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-ফিলিপাইন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আকবর হাকিম, ডিসিসিআই সিনিয়র সহসভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
