ইত্তেফাক রিপোর্ট
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ধারায় ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৮ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। আর এর আগের মাস জুলাইয়ে এসেছিল ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। অর্থাত্ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩০৮ কোটি ডলার যা পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৭২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের টাকা পাঠানোয় উত্সাহিত করতে সরকার চলতি অর্থবছর থেকে প্রবাসী আয়ে দুই শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাত্ প্রবাসীরা তাদের পাঠানো টাকার ওপর দুই শতাংশ হারে বাড়তি টাকা পাবেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার বেড়েছে। হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়ায় এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স জাতীয় আয়ে প্রায় ১২ শতাংশ অবদান রাখছে। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ ১০টি দেশ হলো—যথাক্রমে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান, যুক্তরাজ্য, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৬৩১ কোটি ডলার।
