নৌপরিবহনের সার্ভেয়ার ঘুষের ২ লাখ টাকাসহ আটক

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ারকে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঐ সার্ভেয়ারের নাম মির্জা সাইফুর রহমান। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে তাকে দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদের নেতৃত্বে একটি টিম আটক করে।

দুদক সূত্র জানায়, এম এস শিপিং লাইসেন্সের ম্যানেজার মনিরুজ্জামান ঢাকার সদরঘাট বন্দরের কর্তব্যরত নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমানকে এম ভি খাদিজাতুল কোবরা নামীয় নৌযানের সার্ভে করতে অনুরোধ করেন। সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান তখন জাহাজটি সার্ভে করে ফিটনেস সনদ দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে অনলাইনে সার্ভের আবেদন করতে বলেন এবং ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা ছাড়া তিনি তার জাহাজের সার্ভে করবেন না বলেও জানান। পরবর্তীতে তিনি তার কাছে সার্ভে/ফিটনেস বাবদ ২ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে মর্মে চূড়ান্তভাবে জানান। পরে মনিরুজ্জামান জাহাজটি সার্ভে করার জন্য গত ২৩ জুন কাগজপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে ডক সার্টিফিকেট প্রদান এবং অনলাইনে নৌপরিবহন অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করেন।  মির্জা সাইফুর রহমান ২ লাখ টাকা না দিলে তাদের উল্লিখিত জাহাজটি সার্ভে করবেন না মর্মে টালবাহানা করতে থাকেন। টাকা না দেওয়ার কারণে অদ্যাবধি তিনি উক্ত জাহাজটি সার্ভে করেননি। সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগকারী মো. মনিরুজ্জামান উক্ত কাজের জন্য মতিঝিল বিআইডব্লিউটিএ  ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত মির্জা সাইফুর রহমানের অফিসকক্ষে গিয়ে তার কাছে উল্লিখিত জাহাজের সার্ভে করার জন্য পুনরায় অনুরোধ করলে তিনি পূর্বের মতো ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং উক্ত টাকা গতকাল ২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় মতিঝিলস্থ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অফিসকক্ষে নিয়ে আসতে বলেন। মনিরুজ্জামান বিষয়টি দুদককে অবহিত করলে কমিশন সকল বিধি-বিধান অনুসরণে ফাঁদ মামলা পরিচালনার অনুমোদন দেয়। এরপর গতকাল সকাল থেকে মতিঝিলস্থ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে এবং আশপাশে দুদক টিমের সদস্যরা ওত পেতে থাকে। পরবর্তীতে বেলা পৌনে ১২টার দিকে মির্জা সাইফুর রহমান ঘুষের ২ লাখ মো. মনিরুজ্জামানের কাছ  থেকে গ্রহণকালে তাকে ঘুষের টাকাসহ হাতে-নাতে গ্রেফতার করে দুদক টিম। এ ব্যাপারে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ একটি মামলা দায়ের করে।