কর্ণফুলীর রাঙ্গুনিয়া অংশে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪০

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

যাত্রীবাহী নৌ-যান ছাড়াও কর্ণফুলী নদীতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক পণ্যবোঝাই ছোট-বড় নৌযান চট্টগ্রাম শহর এবং পার্শ্ববর্তী হাটবাজারগুলোতে চলাচল করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঁশ-গাছসহ বিভিন্ন বনজদ্রব্য কার্গোযোগে কাপ্তাই বাঁধ পার করে চালী আকারে কর্ণফুলি নদীর পানিতে ভাসিয়ে চালান হয়ে থাকে। এ ছাড়াও এখানে উত্পাদিত কলা, কাঁঠাল, কমলা, তরমুজ ইত্যাদি নানা ধরনের ফল ও ফসলের নৌযান কর্ণফুলি নদীপথে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। কর্ণফুলি নদীর দুই পাড়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা দুইটি অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের মধ্যে কোদালা, শিলক, সরফভাটা ও পদুয়া ইউনিয়ন নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণাঞ্চল। উত্তরাঞ্চলের উপজেলা সদর, জেলা শহরসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিক্ষার প্রয়োজনে দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে কর্ণফুলী নদী পারাপার খুবই গুরুত্ববহ। কিন্তু ইদানীং কর্ণফুলি নদীর রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য চর। এতে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

খেয়াঘাট ছাড়াও নদীর এপার ওপারসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে রয়েছে নৌ রুট। বর্ষা ব্যতীত অন্যসব মৌসুমে কর্ণফুলির নৌ রুটে যাত্রীবাহী যানবাহন এবং বিভিন্ন পণ্যের চলাচল নিরাপদ ও  ব্যয় সাশ্রয়ী। কিন্তু প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি শুকিয়ে যায়। তা ছাড়া নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠে চর। এতে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যয়ে পড়ে। মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে উঠে চরম দুর্ভোগের। প্রতি বছরের মতো এবছরও চরজাগা নদীতে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন নৌযান চলাচলে অনেক ক্ষেত্রে নদীতে জোয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয়। কোথাও কোথাও আধঘণ্টার পথ যেতে ২ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোদালা, ধোপাঘাট, ডংয়েরমুখ, শিলক বুহচক্র হাট, শিলক রাস্তার মাথা, মরিয়মনগর, ইছামতি, বালুরচর, কাটাখালি, কদমতলী, হাশেমখাল, দেয়াঞ্জীর হাট এলাকা বরাবরে নদীতে জেগে উঠছে চর। ভেসে উঠা দৃশ্যমান বিশাল চর ছাড়াও নদীতে রয়েছে ডুবোচর। কোথাও কোথাও চলার পথে ডুবো চরে আটকে পড়ছে বিভিন্ন নৌযান। কোদালা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ডুবোচরে আটকেপড়া নৌযান মুক্ত হতে নদীতে জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। চন্দ্রঘোনা শ্যামাপাড়া গ্রামের গোরাঙ্গ জলদাশ বলেন, ব্যাপকভাবে চর জাগার কারণে কর্ণফুলীর নৌপথে যান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতির শিকার হচ্ছে মানুষ।

নদী বিষয়ে অভিজ্ঞ জনৈক এনায়েতুর রহিম এবং সরফভাটা ইউনিয়নের প্রবীণ ব্যক্তি মোহাম্মদ ইদ্রিচ বলেন, দীর্ঘ নদী শাসন ব্যবস্থা না থাকায় কর্ণফুলি তার ঐতিহ্যের পরিবেশ হারিয়েছে। তীর ভাঙনে এবং নাব্যতা হ্রাসের কারণে নদীর প্রবাহে এখন স্থিতি নেই।  শ্রীহীন হয়ে পড়েছে কর্ণফুলি। পাল উড়িয়ে নদীতে মহাজনি নৌকার সারিতে এক সময়ের বাণিজ্যিক কোলাহল থমকে গেছে।  নদী নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বাধীন কাপ্তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী পেলে বড়ুয়া বলেন, পাহাড় আর খাল-বিল গড়িয়ে প্রতি বছর বর্ষার পানিতে বালু আর পলিতে কর্ণফুলি নদীতে নাব্যতা হ্রাস পায়। শুষ্ক মৌসুমে চর জেগে স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিকূলতা তৈরি হয়। নাব্যতা রক্ষার জন্য নদীতে ড্রেজিং পরিকল্পনার প্রয়োজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন বড়ুয়া জানান, নদীর ভাঙন প্রতিরোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি নদীতে নাব্যতা সৃষ্টির জন্য ড্রেজিং পরিকল্পনা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।