বাবা-মা ভারতীয় সন্তান দেশহীন

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১৩

ভারতের আসামে গোলমেলে এনআরসি তালিকায় বাদ পড়াদের মধ্যে আতঙ্ক কমছে না। কারণ কারো নিজের নাম উঠেছে তো স্ত্রী-ছেলেমেয়ের নাম ওঠেনি। কারোর আবার নিজের নাম উঠেছে তো বাদ পড়েছেন তাদের বাবা-মা। আবার বাবা-মা ভারতীয় হিসেবে নাম উঠলেও সন্তান হয়ে গেছেন ‘দেশহীন’! অর্থাত্ তার নাম নেই তালিকায়।

বিষয়টি নিয়ে  অসন্তোষ চরমে উঠেছে। চলছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। জানা গেছে, এনআরসি তালিকায় বাদ পড়া ১৯ লাখ মানুষের মধ্যে       ১২ লাখ বাঙালি হিন্দু। অনেকেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিয়ে হয়ে আসামে যাওয়া অনেক মেয়েই নিজের রাজ্যে ফিরে আসতে চাইছেন। এরই মধ্যে জানা গেছে, খসড়া তালিকায় যে ৪১ লাখ বাদ পড়েছিলেন তার মধ্যে থেকে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেতে তাদের মধ্যে ৪ লাখ মানুষ আবেদনই করেননি। অনেকে বাদ পড়লেও এনআরসি তালিকায় ‘ভারতীয়’ হিসেবে নাম রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফার নেতা পরেশ বড়ুয়ার।

আসামের কাছাড় জেলার বিজেপি নেত্রী ববিতা পাল লোকসভা নির্বাচনের আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলে এসেছিলেন মোদি সরকার ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের কোনো ভয় নেই। এনআরসির তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল তালিকায় নাম নেই তার। এমনকি তার ছেলে এবং ভাসুরের দুই মেয়ের নামও বাদ পড়েছে। কাঁদতে কাঁদতে ববিতা জানিয়েছেন, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায় না বের হওয়া পর্যন্ত তার ছেলে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবে না। অন্যদিকে, সিল্কিঝাড়ের বাসিন্দা স্বপ্না বিশ্বাসের নাম ওঠেনি এনআরসির তালিকায়। নাম নেই দুই ছেলে সঞ্জীব ও দেবজিত্ বিশ্বাসের। তবে নাম উঠেছে স্বামী পরিতোষ বিশ্বাসের। হঠাত্ করে একটা বাড়ি যেন দুটো দেশ হয়ে গেছে। পরিতোষের জিজ্ঞাসা, তাহলে কী শুধুই আমাকে ভারতে থাকতে দেবে? বউ, ছেলে দুটোকে তাড়িয়ে দেবে? এনআরসির তালিকা বলছে, একই ছাদের নিচে একটা দেশ আর বিদেশের সহাবস্থান শুরু হয়েছে রবিবার সকাল থেকে!

বাদ পড়াদের মধ্যে হিন্দুদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে আসাম বিজেপির একাংশে। তারা নতুন কোনো পদ্ধতি বের করে বাদ পড়া হিন্দুদের তালিকাভুক্তিকরণের দাবি তুলেছেন। এরই মধ্যে আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেছেন, টাকা নিয়ে এনআরসিতে কারচুপি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের লোকদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলা হবে। ক্ষোভ, বিক্ষোভ সামাল দিতে ভারত সরকার ঘোষণা করেছেন তালিকায় নাম যাদের নেই তাদের সামাজিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। যদিও তালিকায় নাম না থাকাদের আশঙ্কা এর কারণে সরকারি, বেসরকারি চাকরি পেতে সমস্যায় পড়তে হবে। ভবিষ্যতে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্টে গিয়েও যদি নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ না করা যায়, তাহলে জমির অধিকারও হারাতে হবে।