রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে :নাসিম

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১৫

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জাতীয় এই ইস্যু নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১৪ দল আয়োজিত উপমহাদেশের বাম প্রগতিশীল আন্দোলনের পুরোধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানবিক দায়িত্ব থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু এই রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে অশুভ শক্তির চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। এখন তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। এটা নিয়ে চক্রান্ত বন্ধ করুন। রোহিঙ্গা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়।

তিনি বলেন, ঐক্যের কারণে জঙ্গি দমন সম্ভব হয়েছে। আশা করি রোহিঙ্গা সমস্যা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সমাধান করতে পারব। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন মোজাফফর আহমদ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় নেতাসহ মোজাফফর আহমদদের মতো দূরদর্শী নেতারা ছিলেন বলে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। তারা ছিলেন সত্যিকারের দেশ প্রেমিক। তাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা নিজ হাতে ফুল দিয়ে মোজাফফর আহমদকে শ্রদ্ধা জানান। মোজাফফর আহমদের স্মৃতিচারণ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চেতনায় তিনি প্রখর ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যেমন আপস করেননি, অধ্যাপক মোজাফ্ফরও তেমনি চেতনার সঙ্গে আপস করেননি। সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ নির্লোভ, নিরহংকার, জনকল্যাণে নিবেদিত একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। নীতি ও আদর্শে তিনি ছিলেন আপসহীন। জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, অনৈক্য ও একলা চলা নীতি আত্মঘাতী। ঐক্য না থাকলে কখনো টিকে থাকা বা কাজে সফলতা আসে না। আমরা যদি অধ্যাপক মোজাফ্্ফর আহমদকে বুঝি, তার আদর্শকে বুঝি তাহলে ঐক্যকে আরো সংহত করতে হবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি যদি শক্তিশালী বিরোধী দলে থাকতো তাহলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হতো। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রশাসনের ওপর ভর করলে ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পায়। জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, সকল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন মোজাফফর আহমদ। তার মতো সত্, নির্লোভ ও কর্মঠ রাজনীতিবিদের বড়ো প্রয়োজন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মোজাফফর আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।