উন্নয়নকাজের খোঁড়াখুঁড়িতে চট্টগ্রামে নিত্য দুর্ভোগ

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১৭

ওয়াসার উন্নয়ন প্রকল্পের খোঁড়াখুঁড়ির জন্য সীমাহীন ভোগান্তিতে চট্টগ্রাম নগরবাসী। ওয়াসার দুটি প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর কাজে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থা। যেসব সড়কে পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলো কার্পেটিং না করায় যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি আরো বেড়েছে। গতি পরিবর্তন করতে হয়েছে যানবাহন চলাচলের। অথচ রোড কার্টিংয়ের জন্য সিটি করপোরেশনকে দুটি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। পাইপলাইন স্থাপনের জন্য আরো অন্তত ২০টি সড়ক কাটতে হবে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে।

জানা যায়, ওয়াসার চলমান দুটি প্রকল্পের মধ্যে একটি আগামী বছরের জুনে ও অপরটি ২০২২ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। ফলে খোঁড়াখুঁড়ি আরো ২/১ বছর চলতে পারে। তবে ওয়াসার মতে, তাদের প্রকল্পের বেশির ভাগ খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হয়েছে। কিন্তু এসব সড়কে কার্পেটিং না করায় মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়কটি এক পাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এক বছরের অধিক সময় ধরে। একপাশে যান চলাচলের কারণে নিত্য যানজট লেগে থাকে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নীতকরণ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর জন্য ১৬০ কিলোমিটার সড়ক খুঁড়তে হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫৫ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হয়ে গেছে। বাকি কাজ আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে। নিয়ম অনুসারে কী পরিমাণ রাস্তা কাটা হবে— সিটি করপোরেশন থেকে তার অনুমোদন নিতে হয়। সিটি করপোরেশন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক উন্নয়নকাজ শেষে মেরামতের জন্য ব্যয়ের চাহিদাপত্র দেয়। সেই অনুপাতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ টাকা পরিশোধ করেন।

এ ব্যাপারে প্রকল্প কর্মকর্তা ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের আরো ৫ কিলোমিটার সড়ক কাটতে হবে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক কার্পেটিংয়ের জন্য সিটি করপোরেশনকে ৫৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। এখন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের দায়িত্ব করপোরেশনের।

এদিকে রাঙ্গুনিয়ায় নির্মাণাধীন কর্ণফুলি পানি সরবরাহ প্রকল্পের (ফেইজ-২) আওতায় নগরীতে ৬০০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসাতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৫২৫ কিলোমিটার সড়কে পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ করেছে ওয়াসা। আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও তার আগেই কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পের উপপরিচালক প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য সিটি করপোরেশনের ৭১ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে আমরা প্রায় ৪০/৪২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। বাকি টাকাও যথাসময়ে পরিশোধ করা হবে। আমরা যে পরিমাণ কাজ শেষ করেছি তা ইট ও মাটি দিয়ে ভরাট করেছি। এখন কার্পেটিং করবে করপোরেশন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ওয়াসা কাজ শেষ করার পর তারা পরীক্ষা করে দেখে পাইপলাইন ঠিক আছে কি না। যদি কোথাও সমস্যা হয় তাহলে আবার রাস্তা খুঁড়তে হয়। তাই ওয়াসা যখন সবকিছু ঠিক আছে বলে রিপোর্ট দেয়, তখন আমরা কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করি। ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং করা হয়েছে।