নোবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ছাত্র হল বন্ধ ঘোষণা

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১৯

আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে রবিবার রাতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের পর গতকাল সোমবার ভোর ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহযোগিতায় ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হল থেকে ছাত্রদের বের করে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকারিয়ার নেতৃত্বে  একদল পুলিশ ঐ ছাত্র হলে তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি মদের বোতল, গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে—চাপাতি, ছোরা, কিরিচ, দা, ট্যাটা, রড ও লাঠি।

জানা যায়, রবিবার রাত ১০টার দিকে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সফিকুল ইসলাম রবিন ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ধ্রুবর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ভাষাসৈনিক আব্দুস সালাম ছাত্র হলের ২৫-৩০টি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায়  দুই শিক্ষকসহ ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদকে গতকাল সকালে রাজধানীর নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অপর আহত ছয় ছাত্রকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়।

ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর জানান, আব্দুস সালাম হলে সিনিয়র ছাত্রদের সামনে জুনিয়র ছাত্রের ধূমপানকে কেন্দ  করে শনিবার রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক জন আহত ও হলের কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রবিবার রাতে এনিয়ে আধিপত্য বিস্তার করতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে  আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শিক্ষকরা সংঘর্ষ থামাতে গেলে আব্দুল মালেক উকিল ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ ও ভাষাসৈনিক আব্দুস সালাম ছাত্র হলের সহকারী প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ইকবাল হোসেন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে রাতে জেলা শহর থেকে শতাধিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সংঘর্ষকারী একটি গ্রুপের সমর্থকরা আব্দুস সালাম ছাত্র হলে অবস্থান নিয়ে হলের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহু চেষ্টার পর পুলিশের সহযোগিতায় গতকাল (সোমবার ) ভোর ৪টার দিকে ঐ হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং তা বন্ধ ঘোষণা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক জন শিক্ষার্থী জানান, রবিবার ও শনিবার রাতে উভয় গ্রুপের কর্মী-সমর্থকরা চাপাতি, হকিস্টিক ও রড নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় হলে ভাঙচুরের পাশপাশি লুটপাট হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।