আবার ফিরে পেল প্রাণ!

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৭

  রাফী উল্লাহ

 

স্কুল জীবনে প্রতিদিন ক্লাসের পরে ছুটির ঘণ্টা বেজে উঠলে কে কার আগে ক্লাসের বাইরে বের হবে তা নিয়ে হৈ-হুল্লোড় পড়ে যেত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেই জোশটা পাওয়া যায় না। সপ্তাহে দুই দিন ছুটি আর তেমন ছুটি পাওয়া যায় না। নিজের ক্যাম্পাসেই আবাসিক হলে থাকা হয় বলে ছুটির সেই গূঢ় মর্ম অনুধাবন করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। বছরে দুই ঈদের ছুটি আর পূজার ছুটি বাদে ছুটির দেখা মেলা ভার। তার মাঝে যখন ঈদের ছুটি হয় তখন আনন্দের অন্ত থাকে না। বাড়িতে যাওয়ার জন্য মন উতলা হয়ে ওঠে। যখন বাড়িতে যাই কিছুদিন পর বাড়িতেও ভালো লাগে না কারণ বন্ধুবান্ধব ছাড়া জীবন কেমন যেন এক বিচ্ছিন্ন গাছের পাতার মতো। তাই ক্লাস শুরু হওয়ার তাগিদে এবং বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আবার দেখা পুনরায় জীবনকে একটি রুটিনে আটকে ফেলার জন্য প্রিয় ক্যাম্পসে এসে পাড়ি জমাতে হয়।

তাই পবিত্র ঈদুল আজহা ও জাতীয় শোক দিবসের উপলক্ষ্যে দীর্ঘ ছুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। পুনরায় চাঞ্চল্য প্রাণ ফিরে পেয়েছে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনসহ আড্ডার চিরচেনা স্থানগুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাসকে আবারও মুখরিত করে তুলেছে।

দীর্ঘ ছুটি কী হয়: প্রিয় সহপাঠীদের কাছে পেয়ে পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, গল্প আর আড্ডায় মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। বোটানিক্যাল গার্ডেন, কামাল-রঞ্জিত মার্কেট, আমবাগান, বিজয় ’৭১-এর সামনে শিক্ষার্থীদের জমে উঠেছে আড্ডা। তাছাড়া কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশে ও প্রশাসনিক ভবনের পাশে শিক্ষার্থীদের গ্রুপ স্টাডিজের দৃশ্যও চোখে পড়ে। প্রায় সবখানেই চলছে ঈদে কাটানো মজার মজার সময়গুলো বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার ধুম। সব মিলিয়ে গান,গল্প, হাসি আর আড্ডায় মেতে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।

এদিকে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল বিভাগে যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও আগের মতোই চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন এখন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছেড়ে যায় গন্তব্যস্থলে। সবকিছু মিলে ঈদের ছুটির মধ্যে শিক্ষার্থী শূন্য ক্যাম্পাস আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ছুটির সময়ের ঘুমিয়ে থাকা ক্যাম্পাস যেন আগের মতো আবার জেগে উঠেছে। নাড়ির টানে বাড়িতে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করার পর ক্যাম্পাসে ফিরে প্রথমে অস্বস্তিবোধ করলেও মানিয়ে নিতে মোটেও অসুবিধা হচ্ছে না আবাসিক শিক্ষার্থীদের।