তরিকুল শাওন
বন্ধুত্ব! শব্দটাই যেন মনের নীল আকাশটায় ডানা মেলে উড়তে থাকা রঙিন ঘুড়ির মতো। শত ব্যস্ততার যান্ত্রিক জীবনে যা হঠাত্ বৃষ্টির মতো এক পশলা সুখ এনে দেয়। বন্ধুত্ব মানেই নির্মল হাসি অকারণ ভালোবাসা বাধাহীন। আজ এমনি এক বন্ধুবৃত্তের গল্প শোনাব।
কেউ হতে চায় বিসিএস ক্যাডার, কেউবা ভালো নেতা আবার কেউ কেউ সমাজকর্মী, সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার, পুষ্টিবিদ ও দেশের সার্বভৌমত্বের অতন্ত্র প্রহরী। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের পাঠ চুকিয়ে যাদের প্রায় সবাই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের দৌড়ে আছেন। তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছে চাকরি জীবনে। কাঁধে তুলে নিয়েছে পরিবারের দায়িত্ব। ভিন্নমত ভিন্ন চিন্তাভাবনা পড়াশোনাও ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। মতামতের ভিন্নতা থাকলেও একটি লাইনে এসে সবাই এক ‘দেশ ও মাতৃকার সেবা করা’। বলছিলাম হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চৌমুহনী ও বহরা ইউনিয়নের কিছু উদ্যমী তরুণের কথা।
মনতলা বাজারে মাইনুদ্দীনের ছোট্ট একটা চায়ের দোকান সেখানেই বসে বিকালের আড্ডা। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পরিবারকে সময় দিয়ে সন্ধ্যে নাগাদ হাজির হয় সবাই। আসরের মধ্যমণি একেক দিন একেক জন। মানে একেক দিন একেক জনকে বকরি বানিয়ে হালাল করা হয়।
‘বন্ধুবৃত্তের’ প্রায় সবাই পড়াশোনা ও চাকরিবাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তাদের প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি সংগঠন নিজ নিজ ক্যাম্পাস ও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ ও অসহায় দরিদ্রদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে। কাজ করছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুন্দর, সমৃদ্ধশালী, স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়। যেখানে থাকবে না কোনো হানাহানি, ছিনতাই, রাহাজানি, খুন ও ধর্ষণ। থাকবে শুধু সুখ আর সুখ।
