বিশ্ব বাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৪৫

>> জাহিদ হাসান দিপু

 

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওয়াল্টন নিয়ে এসেছে স্মার্ট টেলিভিশন। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে এর দাম কমেছে বেশ কয়েকবার। এতে যেমন সর্বস্তরের মানুষের ক্রয়সাধ্যের মধ্যে এসেছে স্মার্ট টেলিভিশন, অন্যদিকে মানসম্পন্ন পণ্যের জন্য কমেছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা। আর এর পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি ওয়াল্টন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (টেলিভিশন) সিইও মোস্তফা নাহিদ হোসেন। তার হাত ধরেই সর্বস্তরের মানুষের ঘরে ঘরে টেলিভিশন পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে ওয়াল্টন।

পাবনা ক্যাডেট কলেজে পড়েছেন, এরপর আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন নাহিদ হোসেন। ২০১১ সালে যোগ দেন ওয়াল্টনের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে। সেখানে কাজ করেন দীর্ঘ ৩ বছর। পরবর্তী সময়ে তিনি সোর্সিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালে তিনি ওয়াল্টনের টেলিভিশন বিভাগের সিইও হিসেবে কাজ শুরু করেন। ওয়াল্টনের হয়ে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছরে কাজ করেছেন এই প্রতিষ্ঠানের পণ্যকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে। পাশাপাশি কাজ করে গেছেন দেশে তৈরি এই ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম সর্বস্তরের মানুষের ক্রয়সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য। এর ফলে গত কয়েক বছরে ওয়াল্টনের টেলিভিশনের দাম কমেছে চারবার। তবে দামের সঙ্গে নামেনি এর মান। বরং দিনে দিনে মানের দিক থেকে হয়েছে আরো উন্নত। নাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিদেশি প্রতিষ্ঠান আপনার সঙ্গে সেবার মান নিয়ে ঝামেলা করতেই পারে। তাদের লাভের পরিমাণ আশানুরূপ না হলে যেকোনো সময় তারা ব্যবসা গুটিয়ে চলেও যেতে পারে। তবে আমরা এ দেশীয় প্রতিষ্ঠান। আমরা চাইলেই আমাদের গ্রাহকদের প্রতারিত করতে পারি না। শুধু পণ্য বিক্রির সময়ই নয়, বিক্রির পরেও আমরা গ্রাহকদের একই রকম সেবা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

তিনি জানান, গ্রাহক সেবা দেওয়ার জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় ওয়াল্টনের রয়েছে ৭২টি কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট। আছে ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন সুবিধা।

বিশ্ব বাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’-কে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছে ওয়াল্টন। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন নাহিদ হোসেনও। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তার টিম নিয়ে আসছে নতুন নতুন পরিকল্পনা। এরই অংশ হিসেবে তারা নিজেদের টেলিভিশনের সঙ্গে নিয়ে আসছেন ভয়েজ সার্চ টেলিভিশন অ্যাপ্লিকেশন। এর মাধ্যমে গ্রাহকের কথা অনুসরণ করবে টেলিভিশন। এর পাশাপাশি আরো নতুন কিছু ফিচার নিয়ে কাজ করছে তার টিম। আর দেশীয় টেলিভিশনে এ রকম আন্তর্জাতিক মানের ডিজাইন ও ফিচারের কারণে দেশের বাজারে ক্রমশ বেড়েই চলছে এর চাহিদা। তিনি জানান, গত বছর তাদের বিক্রয়ে প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে শতকরা ৬২ শতাংশ। এছাড়াও সম্পূর্ণ দেশীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায়, দেশের সর্বত্র টেলিভিশন ব্যবহারে সুবিধা-অসুবিধা মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয় প্রতিটি টেলিভিশন। তাই মানের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় তাদের পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছে মানুষ।

দেশীয় ব্র্যান্ড হয়েও বিদেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেই বাজারে টিকে থাকতে হয়েছে ওয়াল্টনকে, এমনটাই জানালেন নাহিদ হোসেন। একসময় বাজারে টেলিভিশন বলতে মানুষ একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের টেলিভিশনকেই চিনত। তবে তাদের পণ্যের দাম ছিল সর্বস্তরের মানুষের সাধ্যের বাইরে। এ নিয়ে কাজ শুরু করে ওয়াল্টন। সম্পূর্ণ দেশে তৈরি ও আমদানি শুল্ক না থাকায় টেলিভিশনের দাম কমাতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি।   

জাপান কিংবা চীনের মতো বাংলাদেশকেও একদিন বিশ্বের মানুষ ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট দেশ হিসেবে জানবে, এমন স্বপ্নই দেখেন নাহিদ। আর তাই দেশের সীমানা পেরিয়ে এখন বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে ওয়াল্টনের টেলিভিশন। ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জার্মানির মতো উন্নত দেশের বাজারেও রয়েছে এর চাহিদা। নাহিদ হোসেন ও তার টিমের লক্ষ্য বিশ্ব বাজারে প্রতিবছর ১০ লাখ টেলিভিশন রপ্তানি করবে বাংলাদেশ। রপ্তানির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যমেলায় অংশ নিচ্ছে দেশি এই প্রতিষ্ঠান। তাদের লক্ষ্য, বিশ্ব বাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’-কে প্রতিষ্ঠিত করা।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে এস এম নুরুল আলম রিজভির হাত ধরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ওয়াল্টন গ্রুপ। সত্তরের দশকে ওয়াল্টন ইস্পাত শিল্পে প্রবেশ করেছিল এবং ২০০০ সালে এসে ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইল ব্যবসায় প্রবেশ করে। ২০০২ সালে গাজীপুরের চন্দ্রায় এর ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে শেষ হয়। এখানেই শুরু হয় দেশীয় রেফ্রিজারেটর, মোটরসাইকেল ও এসি তৈরির কাজ।