হোাসেনপুরে রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক দ্রব্য জমা করে সেগুলো বিক্রি করে এবং টিফিনের টাকা জমিয়ে সেসব টাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে শিশুদের হাসি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ করা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে গাছের চারা বিতরণ করেছে। সংগঠনটির সদস্যরা সবাই শিক্ষার্থী। তারা হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশ থেকে প্লাস্টিক দ্রব্য জমা করে আসছিল। পাশাপাশি জমা করছিল টিফিনের টাকা। লক্ষ্য বৃক্ষরোপণ।
অবশেষে জমানো প্লাস্টিক দ্রব্য বিক্রি এবং টিফিনের টাকা মিলিয়ে গাছের চারা কিনে তারা পরিচালনা করেছে বৃক্ষরোপণ অভিযান।
গত ৩১ জুলাই হোসেনপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী স্থানে বিভিন্ন প্রকারের গাছ রোপণ করে তারা। সড়কের পাশে আমলকি, অর্জুন, জামরুল, কামরাঙ্গা, বট, আম, আমড়া, চেরি, হরিতকি, বকুল, চালতা, কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করে কাটে তাদের সারাদিন।
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে সংগঠনের সদস্যরা জানায়, একটি দেশে আয়তন এবং জনসংখ্যা অনুসারে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলেও সরকারি হিসেবে দেশে এর পরিমাণ সাড়ে ১৭ শতাংশ, যা বেসরকারি হিসেবে ১০ শতাংশেরও কম। ফলে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে পরিবেশ। এছাড়া আমাদের মাত্রাধিক প্লাস্টিক দ্রব্য ব্যবহার ও সঠিকভাবে এর পুনঃপ্রক্রিয়াজাত না করার কারণে আমাদের পরিবেশ ও মাটির ক্ষতি হচ্ছে। মাটির উর্বরতা বিনষ্টসহ জীববৈচিত্র্যের জন্য এটি হুমকিস্বরূপ।
তাই পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে তারা প্লাস্টিক দ্রব্য সংগ্রহ করে সেসব বিক্রি করছে এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কাজে উপজেলা কৃষি অফিস তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে বলেও জানায় সংগঠনটির সদস্যরা। এ বছর বিভিন্ন জাতের মোট ৫০০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা আছে বলে জানায় তারা।
শিশুদের হাসি ফাউন্ডেশন মূলত অসহায় শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে আসছিল। সংগঠনের কিশোর-কিশোরীরা বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করছে। এছাড়াও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য খুলেছে একটি স্কুল, যেখানে শিক্ষার্থী ২০ জন। সংগঠনটির রয়েছে নিজস্ব সমৃদ্ধ এক পাঠাগার। যেখানে জ্ঞানপিপাসু অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বই পড়তে পারছে। এছাড়া খেলাধুলা প্রতিযোগিতা, মাদকবিরোধী আন্দোলন, শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংগঠনটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ অসহায় শিশুকে সহযোগিতা করেছে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর হোসেনপুরের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তাদের ৩৫০ জন সদস্য রয়েছে। সদস্যদের এক টাকার অনুদানে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ এস এম জহির রায়হান বলেন, ‘একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আমি তাদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। তারা আমাদের বিদ্যালয়ের গর্ব। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আমার সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।’ সংগঠনটির পেইজ হলো www.facebook.com/childrenssmilehp.
