ডিজিটাল বিভাজন দূরীকরণে নারী শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে হুয়াওয়ে

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩৬

আরিফুর রহমান

 

গতকাল রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এছাড়াও, স্কুলের মেয়েরা যেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পড়ালেখা করতে পারে সেজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে ট্যাব প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এবং হুয়াওয়ে টেকনোলোজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝ্যাং ঝেংজুন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন টিঅ্যান্ডটি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা ফেরদৌসী খানসহ হুয়াওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।  

হুয়াওয়ে শুধু আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং তারা সমাজের প্রতি একটি দায়িত্বশীল কোম্পানি। কোম্পানিটি নিজেদের অনেক কার্যক্রমে নিয়োজিত করেছে এবং গুরুত্ব প্রদান করেছে চারটি বিষয়ের ওপর। বিষয়গুলো হচ্ছে, ডিজিটাল বিভাজন দূরীকরণ, পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, স্থিতিশীল ও নিরাপদ নেটওয়ার্ক অপারেশন্স ব্যবস্থাকে সমর্থন করা এবং স্থানীয় মানুষের জন্য কাজ করা এবং বাংলাদেশের স্কুলগামী মেয়েদের সহায়তা করার তাড়না থেকেই আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বিগত দুই দশকে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের অর্জন অসামান্য। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-এর তথ্য অনুসারে, প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তিকরণে বাংলাদেশের উন্নয়নের হার ১১২ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৬ সালের তথ্যমতে, বৃদ্ধি পাচ্ছে ছেলে ও মেয়েদের ভর্তির অনুপাতের হারও। ফলে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক উভয় শিক্ষা ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ লিঙ্গ সমতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পারস্পরিক সহায়তায় বিশ্বাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হুয়াওয়ে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের এই কার্যক্রমে সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় এবং ঐসব মেয়েদের উত্সাহ প্রদান করতে চায়, যারা তাদের নিজেদের জীবন ও সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে পড়াশুনা করছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে আমাদের সরকার। বিশেষ করে নারী শিক্ষায় আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, নারীদেরকে প্রতিটি স্তরে নিয়োজিত করা প্রয়োজন। বিশ্বের নেতৃস্থানীয় আইসিটি সল্যুশন প্রদানকারী হওয়া সত্ত্বেও হুয়াওয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাখাতের সহায়তায় এগিয়ে আসছে। আজ তারা টিঅ্যান্ডটি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ প্রদানে এগিয়ে এসেছে। নিঃসন্দেহে এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় উত্সাহ যোগাবে। সত্যিকারভাবে, আমি হুয়াওয়ের এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি।’

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিইও ঝ্যাং ঝেংজুন বলেন, ‘২০ বছর ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে বেড়ে উঠছে হুয়াওয়ে। এই সময়কালে আমাদের চোখে বাংলাদেশে দ্রুত উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এখন বাংলাদেশের একটি ভিশন রয়েছে, যার লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটালাইজড করা। পারস্পরিক সহায়তায় বিশ্বাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হুয়াওয়ে এদেশের ভিশন ২০২১ যাত্রার সঙ্গী হতে চায় এবং নিজের জীবন ও সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে পড়াশুনা করছে, এমন সব শিক্ষার্থীদের উত্সাহ প্রদান করতে চায়।’     

বাংলাদেশে নিয়োজিত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং চীন পরস্পর খুবই ভাল প্রতিবেশী এবং বন্ধু। বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো উন্নয়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহায়তা করার অভূতপূর্ব সুযোগ রয়েছে। হুয়াওয়ে আজ যে উদ্যোগ নিয়েছে তা শিক্ষার্থীদের তাদের পড়াশুনায় সহায়তার জন্য একটি ছোটো উদাহরণ হিসাবে কাজ করবে। আমি এই উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য হুয়াওয়েকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এবং আশা করি, নিকট ভবিষ্যতে আরো বেশিসংখ্যক চীনা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের উদ্যোগ হাতে নিবে।’