আফগানদের হুমকি মানছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নবাগত হলেও আফগানিস্তান এর মধ্যে একটা সমীহ তৈরি করা দলে পরিণত হয়েছে। যদিও তাদের খেলা দুটি টেস্টে বা সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপে আফগানরা বলার মতো কিছু করতে পারেনি। তারপরও এই দলটির সম্ভাবনা নিয়ে কেউ কখনো নিরাশ নন। তাদের রশীদ খান, মোহাম্মদ নবী, জহির খানরা নিজেদের দিনে ত্রাস হয়ে উঠতে পারেন যে কোনো জায়গায়। সেখানে জায়গাটা উপমহাদেশের স্পিন সহায়ক উইকেট হলে তো আরো ভয়ানক কথা।

বাংলাদেশের নতুন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলছেন, আফগানিস্তানকে তারা বড়ো হুমকিই মনে করছেন। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই দলটার খেলার ভঙ্গিই তাকে সতর্ক করে তুলেছে। গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তিনি বলছিলেন, ‘(আফগানিস্তান) খুবই বড়ো হুমকি। আমরা দেখেছি, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ওরা কেমন ভয়াবহ হতে পারে। এটা অবশ্যই একেবারে ভিন্ন একটা ফরম্যাট। কিন্তু তারা অবশ্যই সামনের কয়েকটা দিন কঠোর একটা লড়াই করার চেষ্টা করবে।’

প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলে আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে একটু বেশি শক্তিশালী থাকবেন বলেও মনে করেন বাংলাদেশের এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। তার মতে, ‘ওরা যদি ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলত, মানসিকভাবেও টেস্টটা ওদের জন্য কঠিন হতো। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলায় ওরা অনেক আত্মবিশ্বাসী থাকবে এবং আমাদেরকে আগামী কয়েক দিন স্পিন দিয়ে চমকে দিতে চাইবে।’

আফগানিস্তানের কাছ থেকে শক্ত প্রতিরোধই আশা করছেন কোচ। সেই সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, এই দলটার প্রধান খেলোয়াড়দের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা খেলে অভ্যস্ত। ফলে এই জায়গাটায় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসী থাকার সুযোগ আছে, ‘আমার মনে হয়, আমাদের ব্যাটসম্যানরা বিপিএল বা অন্যান্য লিগে আফগানিস্তানের স্পিনারদের বিপক্ষে ভালোই মানিয়ে নিতে পেরেছে। এটা আমাদের পক্ষে কাজ করবে। ওদের বেশ কয়েকজন ম্যাচ উইনার আছে—নবী, রশীদ অসাধারণ বোলার। আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা ওদের সমীহ দেখাচ্ছি এবং ওদের বলে আবার সময়মতো স্কোর করতে পারছি। এটা আসলে এই কন্ডিশনে বড়ো একটা চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।’

তাই বলে আফগানিস্তানকে হুমকি মেনে তার দল হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবে, ব্যাপারটা তা নয়। কোচ পরিষ্কার করে দিলেন, তারা জয়ের জন্যই মাঠে নামবেন। আর সেটাই তাদের খেলার উদ্দেশ্য, ‘অবশ্যই। আমরা তো এ জন্যই খেলি। মানে, আমি বলতে চাইছি, কেউ তো হারার জন্য খেলতে নামে না। আমি মাঠে ছেলেদের খেলার প্রক্রিয়াটা দেখতে চাই। তারা যেনো আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধৈর্য দেখাতে পারে এবং আফগান বোলিংয়ের বিপক্ষে সঠিক কাজগুলো করতে পারে; সেটা দেখতে চাই। আমরা যদি এগুলো ঠিকমতো করতে পারি, তাহলে আমরা অবশ্যই জিতব।’

বাংলাদেশে এসেছেন, বেশিদিন হয়নি। তবে এরই মধ্যে শিষ্যদের মধ্যে ভালো করার যে চেষ্টা তিনি দেখেছেন, তাতে খুবই সন্তোষ প্রকাশ করছিলেন কোচ। তিনি বলছিলেন, ‘আমি এখানে আছি দুই সপ্তাহ হয়ে গেল। আমি এখানে যা দেখলাম, তাতে আমি খুব রোমাঞ্চিত। ছেলেরা গত দুই সপ্তাহ ধরে অবিশ্বাস্য পরিশ্রম করছে। তাদের কাজ করা, আচরণ, কাজের নীতি অসাধারণ। আমি এদের নিয়ে খুব সন্তুষ্ট।’