সামনে কঠিন সময় নেইমারের

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪২

দেম্বেলের কারণে ভেস্তে গেল যাওয়া

 স্পোর্টস ডেস্ক

ওসমান দেম্বেলের কারণে ভেস্তে গেল নেইমারের বার্সেলোনায় যাওয়া। সঙ্গত কারণেই নেইমারকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে হলেও আপাতত ফরাসি রাজধানীতে থাকতে হচ্ছে। কেননা গত সোমবার ইউরোপে ফুটবলারদের ক্লাব বদলের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে।

বার্সেলোনা পিএসজি থেকে নেইমারকে স্পেনে আনতে ১৫০ মিলিয়ন ইউরো দিতে চেয়েছিল। এর সাথে ছিল ইভান রাকিটিচ ও জ ক্লেয়ার টোডিবোকে স্থায়ীভাবে এবং ওসমান দেম্বেলেকে ধারে পিএসজিতে পাঠানোর প্রস্তাব। নগদ অর্থের মধ্যে আবার ২০ মিলিয়ন নিজের পকেট থেকে দিতে চেয়েছিলেন নেইমার।

কিন্তু দেম্বেলে প্যারিসের ক্লাবটিতে যাওয়ার জন্য অনেক বেশি বেতন চেয়েছিলেন বলে শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার প্রয়াস সফল হয়নি। এর ফলে নেইমারকে আরো এক বছর অন্তত পিএসজিতে থাকতে হবে।

নেইমার ২০১৭ সালে নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও লিওনেল মেসির ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্খা থেকে বার্সেলোনা ছেড়ে এসেছিলেন। কিন্তু প্যারিসে তার সময় ভালো যাচ্ছে না, ফলে ব্রাজিল তারকাটির ক্যারিয়ারের সেরা সময় নষ্ট হচ্ছে। কেননা পিএসজিতে ইনজুরি ও মাঠ বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে ২৭ বছরের এই ফরোয়ার্ডটি নিজের যোগ্যতা মতো খেলতে পারেননি।

পিএসজির কাতারি ধনকুবেররা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি জয়ের উদগ্র বাসনা থেকেই ২০১৭ সালের আগস্টে রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোয় তাকে দলে ভিড়িয়েছিলেন। এই চুক্তিতে তার বেতন ধরা হয় বছরে ৩৬ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু নেইমার পিএসজির হয়ে কেবল অর্ধেক ম্যাচ খেলতে সক্ষম হন।

এই সময়ে তিনি ৫৮ খেলায় ৫১ গোল করেন নেইমার। ঘরোয়া লিগে দুই বছরে তিনি টানা শিরোপা জয়ের পাশাপাশি একবার বর্ষসেরা খেলোয়াড় হন। কিন্তু যে কারণে তাকে আনা, সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলায় অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। তার আগমনের পর পিএসজি নকআউট পর্বে যে চারটি ম্যাচ খেলে তার তিনটিতেই ছিলেন এই ব্রাজিলিয়।

নেইমারের অনুপস্থিতিতে ফরাসি ক্লাবটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলয় ২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ও পরেরবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হেরে বিদায় নেয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পায়ে আঘাত পাওয়ার পর তিনি ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মানসে আর পিএসজির হয়ে ঐ মৌসুম খেলেননি। এ বছরের জানুয়ারিতে আবারও একই পায়ে আঘাত পান নেইমার। আবারও পিএসজির হয়ে তিন মাস খেলতে পারেননি। পরে গোড়ালির ইনজুরিতে পড়ে ব্রাজিলের হয়ে কোপা আমেরিকায়ও খেলা হয়নি তার। চলতি বছরের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের এক নারীকে প্যারিসের হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। আগস্টে অবশ্য মামলাটি বাতিল করে দেন বিচারক।

ব্রাজিল ফরোয়ার্ডটি প্যারিসে দুবছর ধরে থাকলেও কখনোই ফরাসি ভাষা শেখেননি। তিনি বরং ব্যস্ত থাকেন মাঠ বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে। এসবের মধ্যে ছিল ঝাকালো জন্মদিনের পার্টি দেওয়া এবং নিজের প্রিয় নেটফ্লিক্স সিরিজে আবির্ভূত হওয়ার মতো ঘটনা। অথচ নেইমার হলেন এই গ্রহের সেরা ক্রীড়া তারকাদের অন্যতম। এখন তাকে দ্রুতই বিগত মাসগুলোকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু তাই নয় মাঠে প্রমাণ দিতেও হবে সক্ষমতার। নইলে আগামী বছর তাকে কেনার মতো কেউ থাকবে না।