বৃষ্টি পড়ছে। হেঁটে চলেছি গ্রামের রাস্তার পাশ দিয়ে। হঠাত্ দেখলাম মাঠে কিছু ছোট ছেলে ফুটবল খেলছে। কাদামাখা ছেলেগুলোকে দেখে আমি আবেগে আপ্লুত। আমার মনের মধ্যে হঠাত্ একটি চিন্তা এল। ভাবতে লাগলাম দিন দিন খেলার মাঠগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। সুন্দর সুন্দর বাড়ি তৈরি হচ্ছে। রাস্তার পাশে জমি ভরাট করে তৈরি হচ্ছে কমিউনিটি সেন্টার। মফস্বল এলাকায় বিভিন্ন শপিং সেন্টার হচ্ছে। ভাবছি আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য আমরা কি খেলাধুলার স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারছি? আমরা যারা যান্ত্রিক শহরে বাস করছি তাদের অবস্থা তো আরো খারাপ। খোলা জায়গাগুলোতে উঠছে ফ্ল্যাট বাড়ি। যে বয়সে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করবে, সে বয়সে তাদের হাতে আমরা মোবাইলফোন তুলে দিচ্ছি। মোবাইল ফোনের বেশি ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন সময় দেখা যায়, আমাদের কিছু ছেলেমেয়ে খুব অল্পবয়সে বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বখাটে ছেলেদের সঙ্গে মিশে নিজেদের জীবনকে হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে। খুব ছোট বয়স থেকে ধূমপান করতে শিখছে। মাদকদ্রব্য গ্রহণ করছে। তাই আমাদের উচিত, তাদের লেখাপড়ার দেখভালের পাশাপাশি ক্রিকেট, কাবাডি, ফুটবল খেলার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এসব খেলার প্রতি ভালোবাসা জাগানো উচিত। আগে আমাদের গ্রামে দেখতাম স্কুল-কলেজের ছাত্ররা বিকালবেলা দলবদ্ধ হয়ে মাঠে চলে যেত। বেশকিছু সময় ফুটবল, ক্রিকেট খেলত। আমি মনে করি, শহর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং প্রতিটি গ্রামে খেলার মাঠ থাকা দরকার। পরিশেষে, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার একটি সুন্দর এবং নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করে দিতে সকলের প্রচেষ্টা একান্তভাবে কাম্য।
রূপম চক্রবর্ত্তী, পূর্ব নলুয়া, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
