কুমিল্লায় উন্মুক্তভাবে পড়ে থাকা আবর্জনা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫৯

সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে পরিচিত কুমিল্লার আজ আর সেই সুনাম নেই। দিন দিন আবর্জনার ভাগাড় হয়ে উঠছে জেলার প্রায় প্রতিটি জনপদ। বর্তমানে কুমিল্লা একটি মহানগরী। এর বাইরে পুরো জেলায় রয়েছে আরো আটটি পৌরসভা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১০০ কিলোমিটার অংশ আছে জেলাজুড়ে, রয়েছে ছোটো-বড়ো অসংখ্য হোটেল-রেস্তোরাঁ। আছে হাজারের বেশি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যাথলজি ল্যাব। প্রতিদিন এসব থেকে সৃষ্ট বর্জ্যের যথাযথ পরিসংখ্যান জানা না-থাকলেও নগর কর্তৃপক্ষ কমপক্ষে ১২০ মেট্রিক টন আবর্জনা অপসারণ করেন বলে তাঁদের দাবি। তবু সারা দিন নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশ বা গলির মুখে থাকা ডাস্টবিনের ময়লা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। একইভাবে মহাসড়কের দু’পাশজুড়ে একাধিক পৌরসভা ছাড়াও হোটেল-রেস্টুুরেন্টের আবর্জনা বা উচ্ছিষ্ট ফেলায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। মহাসড়কের পাশে দাউদকান্দি, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ও হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্যে কুমিল্লার পরিবেশ এক কথায় অসহনীয়।

অভিযোগ রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ অসংখ্য ডাস্টবিন তৈরি করে দিলেও অনেক বাসা-বাড়ি থেকে যত্রতত্র বা ডাস্টবিনের বাইরে বর্জ্য ফেলা হয়। প্রতিটা ডাস্টবিনের বাইরে এবং সড়কের ওপর আবর্জনার স্তূপ চোখে পড়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের শত কিলোমিটারজুড়ে ময়লার স্তূপ বাড়ছে তো বাড়ছেই। ফলে মহাসড়কের দু’পাশের দুর্গন্ধে যানবাহনের যাত্রীসহ চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ড্রেন কিংবা খাল জুড়ে দেখা যায় শত শত প্লাস্টিকের পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোলসহ নানা বর্জ্য। কুমিল্লা পরিবেশ আন্দোলনের নেতা কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোসলেহউদ্দিন বলেন, উন্মুক্তভাবে পড়ে থাকা আবর্জনা বায়ুদূষণ ছাড়াও মানুষের মাঝে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মামশাদ কবীর

কান্দিরপাড়, কুমিল্লা