একসময়ের খরস্রোতা নদী। ঢেউয়ের পর ঢেউ আছড়ে পড়ত নদীর উভয় পাড়ে। তরঙ্গের শব্দে গভীর রাতে ভয়ে তটস্থ হতো উভয় পাড়ের মানুষজন। প্রৌঢ় বাওয়ালি, মাঝি-মাল্লা আর জেলেদের জীবন সংগ্রাম আবর্তিত হতো এই নদীকে কেন্দ্র করে। সময়ের বিবর্তনে প্রাচীন সেই নদী আর নেই, নেই সেই উদ্দাম স্রোত। হারিয়ে যেতে বসেছে খাকদোন নদী।
বরগুনা জেলার অন্যতম প্রধান নদী খাকদোন। চওড়া ছিল প্রায় আধা কিলোমিটার। বর্তমানে প্রশস্ততা ৫০ ফুটের বেশি হবে না। নদীর মোহনা থেকে শুরু করে দুই পাশেই চলছে দখলের উত্সব। ভরা জোয়ার ছাড়া ঢাকা-বরগুনা রুটে চলাচল করা দ্বিতল লঞ্চ এখন আর ভিড়তে পারে না। উভয় পাশের চরে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি, হাট-বাজার, ভবন, স্থাপনা, ভাসমান দোকান, আরো কত কী? মত্স্য সম্পদ বিলুপ্তপ্রায়। অথচ একসময় মাছের অভয়ারণ্য ছিল এ নদী। বরগুনার তাপমাত্রা প্রচণ্ড উষ্ণ হওয়ার কারণও খাকদোন নদী মরে যাওয়া।
বরগুনা নদীবন্দর বন্ধ হওয়ার পথে। একদা এই নদীবন্দর দিয়েই নৌপথে সমগ্র দেশের সঙ্গে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও যাতায়াত চলত। সেসব এখন স্মৃতি। দখলদারদের দখলদারিত্বে সংকুুচিত হয়ে গেছে নদী। গ্রাম-গঞ্জে কালভার্ট, স্লুইজগেট, বাঁধ নির্মাণের ফলে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়াতেও নদীর ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। ফলে নদীর স্রোত কমে যাওয়ায় বৈধ-অবৈধ দখলদাররা নির্ঝঞ্ঝাটভাবে দখল করতে সক্ষম হয়েছে। খাকদোন নদীর পূর্বদিক প্রায় পুরোপুরিই দখল হয়ে গেছে। পশ্চিম দিক বিষখালী নদী প্রবাহিত হওয়ায় এখনো হারিয়ে যায়নি নদীটি। তবে সংকুচিত হয়ে ছোটো খালের মতো অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।
দখলদারদের স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর প্রবাহমানতা অব্যাহত রাখার দাবি আমাদের বহুদিনের। বিষয়টি আমলে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক, প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মাহমুদ ইউসুফ
লাকুর তলা, বরগুনা সদর, বরগুনা
