খিলপাড়া ইউনিয়ন সমাজসেবা কার্যালয় পরিত্যক্ত!

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৩

২৫ বছর ধরে কর্মকাণ্ড নেই

 চাটখিল ও সোনাইমুড়ি (নোয়াখালী) সংবাদদাতা

নোয়াখালী জেলার চাটখিলের ৯ নম্বর খিলপাড়া ইউনিয়ন সমাজসেবা কার্যালয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কোনো কর্মকাণ্ড নেই। এতে বেদখল হয়ে গেছে অফিস ঘরটি। তাছাড়া সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের অভাবে কার্যালয়টি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে খিলপাড়া ইউনিয়নের ছোটো জীবননগর গ্রামে মাজারের ১০০ গজ পূর্বে রাস্তার দক্ষিণ পাশে সরকারি সম্পত্তির ওপর কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়। এতে গর্ভবতী ও মাতৃত্বকালে মহিলাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, সঞ্চয়ী সমিতি গঠন ও ঋণদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এ অফিস থেকে সরকারিভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। সমাজসেবা বিভাগের লোকজন এখান থেকে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করত; কিন্তু ১৯৯৫ সালে এগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

সমাজসেবা কার্যালয়টি বর্তমানে খুবই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। কার্যালয়ের টিনের চাল, বেড়া, আসবাবপত্রসহ সমস্ত কিছু একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এটি বন্ধ হওয়ার পর কয়েকবছর এখানে স্থানীয় মুরব্বিরা বিভিন্ন সামাজিক বৈঠকে মিলিত হতেন। এরপর স্থানীয় কয়েক জন অসাধু ব্যক্তি এটি দখল করে মাদকসেবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অসামাজিক কাজে ব্যবহার করতে থাকে। পরে এক পর্যায়ে মাদকসেবীরা ঘর থেকে সটকে পড়লে অফিস ঘরটি পরিত্যক্ত হয়। ধীরে ধীরে কার্যালয়ের সমস্ত জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

বর্তমানে ঐ অফিস ঘরটিতে স্থানীয় লোকজন ছাগল পালন করেন, স্যানিটারির বিভিন্ন সামগ্রী নির্মাণ কাজে বারান্দাটি ব্যবহার করছেন তারা।

স্থানীয় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী মশিউর রহমান জানান, সরকারি সেবাধর্মী এমন একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে অথচ স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এটা মানা যায় না। তিনি এটিকে সংস্কার করে কল্যাণধর্মী সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার আহ্বান জানান।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুমাইয়া আক্তার জানান, ইউনিয়ন সমাজসেবা কার্যালয়গুলো চালু করার বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এগুলোর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ আরম্ভ করেছেন।