কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ
আবু তোরাব, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন চাষাবাদে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমের শেষ মুহূর্তে ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের মাঝে এখন আমন রোপণ নিয়ে তেমন কোনো ব্যস্ততা নেই। উপজেলার জোয়ারা আড়ালিয়া বিল, জোয়ারা বিল, উত্তর জোয়ারা বড়ুয়া বিল, পাঠানদন্ডী বিল, কানাইমারী বিলের কোথাও জমিতে আমন রোপণের জন্য কৃষকদের তত্পরতা দেখা যায়নি বললেই চলে। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে শুধু যেন ধু-ধু বিল আর বিল। অথচ প্রতিবছর কৃষকরা ঝড়-ঝঞ্ঝা উপেক্ষা করে ভাদ্র মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জামিতে শুধু হালচাষ নয় এরই মধ্যে জমি তৈরি করে আমনের চারা রোপণ শেষ করে থাকেন। কিন্তু এবার হালচাষ দূরের কথা জমিতেও নামতে দেখা যাচ্ছে না স্থানীয় কৃষকদের।
কৃষক নুরুল ইসলাম ও আবু ছৈয়দ বলেন, প্রতিবছর আমরা ২৫০ থেকে ৩০০ শতক জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করে আসছি। কিন্তু এবার বাজারে দাম না থাকায় কৃষকরা আমন চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। কৃষকরা জানান, তারা খরচ পুষিয়ে উঠতে পারছে না। কানি জমিতে পাওয়ার টিলারের খরচ ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, দৈনিক শ্রমিকের বেতন ৭০০/৮০০ টাকা, কিন্তু সেই অনুপাতে বাজারে ধানের দাম নেই। প্রতি আড়ি ধান বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। যার কারণে কৃষকদের মাঝে আমন চাষাবাদে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর। তন্মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস সহকারী মোহাম্মদ আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বছর বর্ষার কারণে দেরিতে আমন চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তিনি ধানের বাজার না থাকায় কৃষকদের মাঝে অনীহার কথা স্বীকার করে বলেন, তারপরও কৃষকদের আমন রোপণ করার মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা পোষণ করেন।
