রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদাতা
রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তিস্তা নদীর ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। থেকে থেকে শোনা যাচ্ছে তাদের বুকফাটা কান্নার আওয়াজ। তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ার পর তীব্র স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে আবাদি জমিসহ বসতবাড়ি। দুই সপ্তাহের মধ্যে তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে অর্ধশত বাড়িঘর।
সরেজমিনে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পাড়ামৌলা গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে ভাঙনকবলিতদের হাহাকার। টিনের ঘর মেরামতরত ইউছুব আলী ও রফিকুল ইসলাম জানান, ১০ বছর ধরে এই ভিটায় ছিলেন তারা। তাদের জমি ছিল, পুকুর ভরা মাছ, গোলা ভরা ধান, সুপারির বাগান ছিল। সবই এখন নদীতে। নিজেদের থাকার জায়গা নেই, তাই অন্যের জমিতে একটু থাকার আশ্রয় নিয়েছেন। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পাড়ামৌলা গ্রামের বেশিরভাগ বিলীন হয়ে গেছে তিস্তা নদীর ভাঙনে। চলতি মাসে অর্ধশত ঘরবাড়ি, জমি, পুকুর আর সুপারিবাগান চলে গেছে নদীগর্ভে।
ঐ গ্রামের রফিকুল, বাতেন, শফিকুল ও রাবেয়া বেওয়া বলেন, ‘সাওয়া পোওয়াক ভাত দিতে পারি না। অবুজ ছাওয়াক কাম করার জন্য পাঠাইছি। এক এক তিন ভাঙা দেওয়ার পর এই জায়গা কোনা নিছোং, তাও ভাঙ্গি গেল। এখন কী করমু, উপায় নাই। থাকবার পথ নাই, কষ্ট হলেও মুই সাহায্য চাও না, মুই তিস্তা নদী ভাঙ রোধে কাজ চাও।’ তারা আরো জানান, বর্তমানে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে পাঁচ শতাধিক বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার।
বিদ্যানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় হাজার হাজার বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন, রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দ্দী বাপ্পি ও ভাইস চেয়ারম্যান আশিকুল ইসলাম শাবু ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
