বিঘায় ৪ থেকে ৬ মণ বেশি উত্পাদন
এনামুল হক, খুলনা অফিস
দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পাট চাষের সুদিন ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনা জেলার উপকূলীয় তিন উপজেলায় লবণসহিষ্ণু পাট চাষে ইতোমধ্যে সফলতা মিলেছে। প্রথমবারের মতো লবণসহিষ্ণু পাটের ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এদিকে, উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কৃষি অধিদপ্তর লবণাক্ত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বিজেআরআই-৮ জাতের পাট চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, উপকূলীয় এলাকায় দেশের প্রচলিত পাট চাষের তুলনায় নতুন উদ্ভাবিত এ জাতের পাট চাষে খরচ কম পড়বে, আবার উত্পাদনও বেশি হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ২০১৫ সালে খুলনার উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত আবাদি-অনাবাদি জমিতে পাট চাষের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি অধিদপ্তর লবণসহিষ্ণু বেশ কয়েকটি পাটের নতুন জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়। বিজেআরআই-৮ জাতের পাট ১০ মাত্রার লবণাক্ততা সহিষ্ণু জলাবদ্ধ স্থানেও এর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। এছাড়া এ জাতের পাট খরা সহিষ্ণুও। এছাড়া দেশের প্রচলিত জাতের পাটের তুলনায় এ পাট বেশি তেতো হওয়ায় রোগ-বালাই ও মোকা-মাকড়ের আক্রমণের শিকারও কম হয়। ফলে এই পাট চাষে বালাইনাশক লাগে না বললেই চলে। সে কারণে উত্পাদন খরচ কম লাগে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছর দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলার শতাধিক কৃষকের মাঝে বিজেআরআই-৮ জাতের বীজ বিতরণ করে কৃষি অধিদপ্তর। কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের উপকূলীয় ১০ দশমিক ৫৬ লাখ হেক্টর জমি লবণাক্ততায় কবলিত। এ কারণে কৃষি অধিদপ্তর লবণাক্ত ও জলাবদ্ধ জমিতে এ পাট চাষে উত্সাহিত করছে।
ডুমুরিয়ার দক্ষিণ ডুমুরিয়া গ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেন কচি জানান, এ বছর তিনি তার একবিঘা জমিতে নতুন বিজেআরআই-৮ জাতের পাট চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। এর একটি পাটও নষ্ট হয়নি। অপরদিকে ২-৩ বিঘা জমিতে ভারতীয় জাতের পাট চাষ করেন। যার অর্ধেকই নষ্ট হয়ে গেছে। একই গ্রামের কৃষক মুরাদ হোসেন জোয়ার্দারও জানান একই কথা। কৃষিতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া গ্রামের কৃষক হানিফ শেখ বলেন, অধিকাংশ জমি লবণাক্ত ও জলাবদ্ধতার কারণে পতিত থাকে। পতিত জমিতে আমরা এ পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রণজিত্ কুমার বালা বলেন, বিজেআরআই-৮ জাতের পাট লম্বা যেমন বেশি; আঁঁশও বেশি। লবণাক্ত এলাকায় অন্য জাতের পাট যখন মারা যাচ্ছে, তখন এই জাতের পাট থাকছে সবুজ ও সতেজ। ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, এ বীজ থেকে বিঘা প্রতি ১৪ থেকে ১৬ মণ পাট পেয়েছেন কৃষক। যা দেশীয় অন্য জাতের পাটের ফলনের তুলনায় ৪ থেকে ৬ মণ বেশি।
