শহিদ মুক্তিযোদ্ধা বাবার স্বীকৃতি চায় সন্তানরা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৮

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহিদ আনসার কমান্ডার মো. তোফাজ্জল হোসেন ভুঁইয়া ওরফে লালু ভুঁইয়াকে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। তোফাজ্জল হোসেন ভুঁইয়ার বাড়ি তাড়াইল উপজেলার কোনা ভাওয়াল গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি আনসার কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় যু্বকদের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য তিনি উদ্বুদ্ধ করেন এবং স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তার এক ছেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এসব খবর পেয়ে ৭১ সালের ২৩ আগস্ট রাতে পাকিস্তানি সেনাদের নেতৃত্বে স্থানীয় রাজাকার বাহিনী তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তাকে গুলি করে হত্যা করে।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. শওকত উদ্দিন ভুঁইয়া এ বিষয়ে তদন্ত করে ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জেলা কর্মকর্তার কাছে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করেন। পরে জেলা আনসার ও ভিডিপির সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট ও জেলা কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত) এস এম শরিফুল আলমও একটি প্রতিবেদন ঢাকা রেঞ্জের পরিচালক বরাবর পেশ করেন। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আসাদ উল্লাহ জানান, তোফাজ্জল হোসেন ভুঁইয়া মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। এ কারণে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। তাড়াইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজুল হক ভুঁইয়া বলেন, ঐ শহিদ পরিবারকে ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তোফাজ্জল হোসেন ভুঁইয়ার ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. ইফতেখারুজ্জামান জানান, তার বাবাকে শহিদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।