সংস্কারের অভাবে গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম শিল্প এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের তিনতলা মোড় থেকে ভোগড়া মধ্যপাড়া বাজার পর্যন্ত হাজি আলতাব উদ্দিন সরকার সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার নারী-পুরুষ ছাড়াও এলাকাবাসীর এ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নগরীর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ভোগড়া বাইপাস সংযোগকারী এ সড়কের তিনতলা বিল্ডিংয়ের মোড় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দক্ষিণে ভোগড়া বাজার পর্যন্ত এ সড়কটির বেশিরভাগ অংশ বেহাল। সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোটো-বড়ো গর্তেরও। এতে অনেক সময় অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি বা ছোটো ছোটো যানবাহন উলটে গিয়ে যাত্রীরা আহত হচ্ছে।
বিশেষ করে তিনতলা বিল্ডিংয়ের কাছে, জঙ্গল মার্কেট, হাজি রাইস মিল, ছোবহানের দোকান সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়, লাভেল ফ্যাক্টরির সামনে, সবেদউল্লাহ চৌকিদারের বাড়ি ও নায়েব বাড়ি জামে মসজিদের সামনের অংশের সড়কটি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। সড়কটির দুরবস্থার কারণে কোনো যানবাহন এমনকি রিকশা ও অটোরিকশার চালকরাও এ সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে চায় না।
জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির পার্শ্ববর্তী ভোগড়া বাইপাস মোড়ে কয়েকটি পাইকারি কাঁচা বাজার ও দূরপাল্লার বিভিন্ন বাস সার্ভিসের কাউন্টার রয়েছে। এছাড়া এ সড়কের আশপাশে বেশ কয়েকটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সড়কটি বেহাল থাকায় এটি দিয়ে কোনো যানবাহন বা মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে না। দীর্ঘদিনেও জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির সংস্কার হয়নি। তাই প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে ভাঙাচুরা সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এদিকে গত ছয় মাস পূর্বে প্রশস্তকরণ ও ড্রেন নির্মাণের জন্য সড়কটির উভয়পাশ বর্ধিত করার লক্ষ্যে বসতবাড়ি, দোকান-পাটসহ অন্যান্য স্থাপনার কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সড়কটিতে উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়নি। এতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত সড়কটির উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল আহামদ সরকার জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম এ সড়কটি বিআরটি প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া সড়কের দুইপাশে প্রশস্তকরণসহ ড্রেন নির্মাণ করা হবে। শীঘ্রই সড়কটির উন্নয়নকাজ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
