এনামুল হক, খুলনা অফিস
খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটি আসনে (খুলনা-৫ ও ৬) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে খুলনা-৫ ও ৬ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরওয়ার ও খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদের প্রার্থীতা চূড়ান্ত করেছে নীতিনির্ধারক কমিটি। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার বাকি। আর গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কাজ শুরু করেছে।
অপরদিকে এ দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীকে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসাবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা বলেছেন, এ দুটি আসনে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা অভিযুক্ত এবং নাশকতাসহ নানা অভিযোগে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় সাংগঠনিকভাবে তারা ভীষণ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় জামায়াতে ইমলামীর প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া অসম্ভব। ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবিদার জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর গোলাম পরওয়ার বলেন, ইতোপূর্বে খুলনা-৫ ও ৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জোটগতভাবে এই আসন দুটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। এবারো ২০ দলীয় জোট এ দুটি আসনে আমাদেরকে ছাড় দিয়েছে। জোটগত নির্বাচনে আমাদের কোন সমস্যা নেই।
ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী দাবিদার বিএনপির ড. মামুন রহমান বলেন, বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৌশলের অবলম্বন নিয়ে একবার মাত্র এই আসনে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচিত হলেও তারা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করেছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর। এরপর জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপির উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি করেছে। যে কারণে এবারের ভোটে তারা ধানের শীষ প্রতীক জামায়াতে ইসলামীর হাতে তুলে দিতে নারাজ। আমার বিশ্বাস ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী হিসাবে আমাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।
অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, সাংগঠনিকভাবে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে। এ অবস্থায় বিএনপির প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে বিজয় সুনিশ্চিত।
এদিকে গত ২ ডিসেম্বর নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে ডুমুুরিয়া ও কয়রা উপজেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথকভাবে বৈঠক করে খুলনা-৫ ও ৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের বয়কট করে বিএনপির প্রার্থীদেরকে চূড়ান্ত ঘোষণার দাবি জানায়।
