বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২০

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আশা করি ভালো আছো। বন্ধুরা, একই ব্যক্তির লেখা পরপর পড়ে তোমরা যাতে বিরক্ত না হও সে জন্য আমরা একেক সপ্তাহে একেকজনের লেখা দেয়ার চেষ্টা করি। কয়েক সপ্তাহ পরে আবার আমি তোমাদের জন্যে বাংলা বানানের বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে এলাম। । গত তিন পর্বে আমি বাংলা বানানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ধারাবাহিকভাবে লেখার চেষ্টা করেছি। আশা করছি তোমরা নিয়মিত অনুসরণ করছো। আজও এসো দেখে নেই কিছু নিয়ম।

বন্ধুরা, আজ আমরা প্রমিত বাংলা বানানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানবো। আশা করি এগুলো তোমাদের শুদ্ধ বানান শেখায় অনেক সহায়তা করবে।

প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:

১। ইংরেজিতে ‘ঝ’এর প্রতি বর্ণ ’স’ হলেও ‘Sh, sion, tion’এর পরিবর্তে ‘শ’ ব্যবহার হবে। যেমন: কমিশন, অ্যাডুকেশন,অ্যাপ্লিকেশন, শিট, মিশন, রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি।

২। বিদেশি বাঁকা শব্দের উচ্চারণে ‘অ্যা’ লেখতে হবে। যেমন: অ্যাকাউন্ট, অ্যাড, অ্যাম্বুলেন্স, অ্যাকাডেমিক ইত্যাদি।

৩। বিদেশি শব্দে “ণ, ছ, এবং ষ’ ব্যবহার হবে না। যেমন: হর্ন, কর্নার, সমিল (করাতকল), সালাম, হাসিব, সুমাইয়া, স্টার, ইনসান ইত্যাদি। অবশ্য তোমাদের মধ্যে অনেকেই ছুমাইয়া, হাছিব, ছালাম, ছালমা লিখে থাকো। আজকের পর আশা করি এমন ভুল করবে না।

৪। প্রশ্ন করা বোঝায় না এমন শব্দে ’কে’ আলাদা করে লেখা যাবে না। যেমন: দেলোয়ারকে আসতে বলো, মঈন উদ্দিনকে খবরটা দিও ইত্যাদি।

৫। প্রশ্নবোধক বাক্যে ‘কে’ আলাদা করে লিখতে হয়। যেমন: আজাদ আবুল কালাম কে? Who is Azad Abul Kalam?, ইমতিয়াজ উদ্দিন কে? আব্দুল আহাদ কে? দেলোয়ার কে? ইত্যাদি।

৬। যে কোন পদের শেষে ‘জীবী’ থাকলে দুটি বর্ণেই ঈ-কার হবে।

যেমন: চাকরিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, কৃষিজীবী, আইনজীবী ইত্যাদি

৭। পদের শেষে ‘বলি বা আবলি’ থাকলে ই-কার হবে।

যেমন: শর্তাবলি, কার্যাবলি, ব্যাখ্যাবলি, নিয়মাবলি, পদাবলি, তথ্যাবলি ইত্যাদি

৮। পদের শেষে ‘অঞ্জলি’ থাকলে ‘ল’ তে বা শব্দের শেষে সবসময় ই-কার হবে।

যেমন: শ্রদ্ধাঞ্জলি, পুষ্পাঞ্জলি, গীতাঞ্জলি ইত্যাদি।

৯। পদের শেষে গ্রস্থ না হয়ে গ্রস্ত হবে। যেমন: বাধাগ্রস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত ইত্যাদি। মনে রাখবে ‘থ’ না হয়ে ‘ত’ হবে।

১০। আমরা জানি বাংলা ভাষার শব্দ ভাণ্ডারের উত্পত্তি পাঁচ প্রকার; ১) তত্সম বা সংস্কৃত, ২) অর্ধ-তত্সম বা আধা-সংস্কৃত, ৩) দেশি, ৪) বিদেশি, ৫) তদ্ভব।

যে সকল যুক্তবর্ণওয়ালা বিদেশি শব্দ বাংলা ভাষায় এসেছে, সেগুলোতে অবশ্যই যুক্তবর্ণে ’ষ ও ণ’ হবে না বরং ‘স ও ন’ হবে।

যেমন: স্টেশন, স্টোর, স্টাফ, স্ট্যান্ডার্ড, পোস্ট, স্টার, বাসস্ট্যান্ড, স্ট্যাটাস, মাস্টার, ডাস্টার, পোস্টার, স্টুডিও, লাস্ট, বেস্ট ইত্যাদি।

১১। যদি সম্পূর্ণ বা ইংরেজিতে complete অর্থ বুঝায় তাহলে প বর্ণে ঊ-কার হবে। যেমন: পূর্ণরপ, পূর্ণমান, সম্পূর্ণ, পরিপূর্ণ, অপূর্ণ ইত্যাদি।

১২। আর যদি বারবার বা ইংরেজিতে জব অর্থে ব্যবহার হয় তাহলে প বর্ণে উ-কার হবে। যেমন: পুনঃপুন, পুনঃপ্রকাশ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপ্রবেশ, পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পুনর্জীবিত, পুনর্নিয়োগ, পুননির্মাণ, পুনর্মিলন, পুনর্লাভ, পুনঃমুদ্রিত, পুনরুদ্ধার, পুনর্বিচার, পুনর্বিবেচনা, পুনর্গঠন, পুনর্বাসন ইত্যাদি।  

 মতামত ০১৭১৪৭০৫৭২৭, পরের অংশ আগামী শনিবার