স্পিন-যুদ্ধের মঞ্চ প্রস্তুত

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩৭

একটা সময় ছিল, বাংলাদেশ ঘরের মাটিতে টেস্টেও দুই-তিন জন ফাস্ট বোলার ব্যবহার করত। কিন্তু সেই ধারা থেকে সরে এসেছে এখন বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ যেই হোক, এখন বাংলাদেশ তিন-চার জন স্পিনার খেলায় টেস্ট একাদশে। সর্বশেষ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে ৪০ উইকেটই শিকার করেছিলেন স্পিনাররা।

প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান হওয়াতে শুরুতে একটা দ্বিধা ছিল—রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী, জহির খানদের বিপক্ষে অমন স্পিন সহায়ক উইকেটে কী খেলবে বাংলাদেশ? সে দ্বিধা সরে গেছে। এখন মোটামুটি পরিষ্কার আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া চট্টগ্রাম টেস্টেও বাংলাদেশ চার জন স্পিনারই মাঠে নামাবে; একমাত্র পেসার হিসেবে খেলতে পারেন আবু জায়েদ রাহি। অন্য দিকে আফগানিস্তানও মাঠে নামাবে এক ঝাঁক স্পিনার।

ফলে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম আজ থেকে হয়ে ওঠতে যাচ্ছে স্পিন যুদ্ধের এক সাজানো মঞ্চ।

আফগানিস্তানের অধিনায়ক, লেগস্পিনার রশিদ খান স্বীকার করলেন যে, এটা স্পিনারদের লড়াই হতে যাচ্ছে। তিনি বলছিলেন, ‘সম্ভবত। কারণ, উপমহাদেশের উইকেটে স্পিনাররাই সুবিধা পায়। ফলে এখানে স্পিন দিয়েই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করা ভালো।’ এই জায়গাটাতে অবশ্য সাকিবের একটু দ্বিধা আছে। তিনি ঠিক নিশ্চিত নন যে, চট্টগ্রামের উইকেট আসলে শেষ পর্যন্ত কেমন আচরণ করবে। তিনি বলছিলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় যে চট্টগ্রামে যেমন উইকেট দেখা যায়, তেমন হয় না। আমরা আসলে ওপেন মাইন্ডে আছি। যে ধরনের উইকেটই হবে, চেষ্টা করব সেটার সঙ্গে দ্রুততম সময়ে মানিয়ে নেওয়ার এবং প্রতিপক্ষের চেয়ে আরো ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়ার। সেটি করতে পারলে আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’

উইকেট যেমনই হোক, বাংলাদেশ যে চার স্পিনার নিয়ে খেলবে, তাতে খুব একটা সন্দেহ নেই। তার মানে, আবারও এক পেসার বা কোনো পেসার ছাড়াই খেলবে বাংলাদেশ। এই পেসারদের ওপর একেবারেই নির্ভর না করাটা অবশ্য উপমহাদেশের বাইরের বোদ্ধারা ভালো চোখে দেখেন না। তারা বলেন, এটা ক্রিকেটের জন্য ভালো নয়।

এই সমালোচনাকে অবশ্য পাত্তা দিতে রাজী নন সাকিব, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে পাত্তা দেই না। কারণ যখন ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় খেলা হয়, চার সিমার খেলে, কোনো স্পিনার খেলে না, সেগুলো নিয়ে তো আমরা সমালোচনা করি না। আমার কাছে মনে হয় না এগুলো নিয়ে চিন্তা করার কিছু আছে। আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে একদমই ভাবি না। আমাদের চিন্তা থাকবে ম্যাচটি জেতার। সেটি যদি দুজন সিমার বা ৩ সিমার নিয়ে খেলতে হয়, খেলব। ১ সিমার নিয়ে খেলতে হলে খেলব। যেটাই আমরা পরিকল্পনা করব, সেটিতেই অটল থাকার চেষ্টা করব। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করব।’

সাকিব সবমিলিয়ে নিজেদের শক্তিতেই ভরসা রাখতে চান। সেটা কী কে বললো, তা না ভেবেই করতে চান। বিশেষ করে তার স্পিনাররা ভালো করছে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। ভালো করছে আফগান স্পিনাররাও। ফলে সাকিব মনে করেন, দুই দলের স্পিনারদের এই কাটকাটির মধ্যে নায়ক হয়ে ওঠতে হবে ব্যাটসম্যানদের, ‘দেখুন দেশে আমরা তো ভালোই বোলিং করেছি। আমাদের স্পিনাররা যখনই সুযোগ পেয়েছে, তাদের পছন্দমতো উইকেট যখন পেয়েছে, সবসময়ই ভালো করেছে। তবে সেটি বলার পরও, ওদেরও কোয়ালিটি স্পিনার আছে। আমার মনে হয় যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে এখানে দুই দলের ব্যাটিংটাই।’