রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানের বাসায় তিন প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। গতকাল বুধবার সকালে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে পুনরায় ভোট আয়োজনে বিদেশি কূটনীতিকদের সহযোগিতা চাইলেন নেতারা। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংবিধান লংঘন করে দেশ শাসন, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠক শেষে গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা বিষয়গুলো তুলে ধরেছি, কূটনীতিকরা শুনেছেন। তবে তারা কিছুই বলেননি। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক, কানাডার উপ-রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শুরুতেই রবার্ট মিলার এবং অ্যালিসন ব্লেইক ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কাছে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। পাশাপাশি তারা এও জানতে চান, তারা এখন কি করবেন বা কি করতে চান? এ ব্যাপারে বিশ্ব সম্প্র্রদায়ের কাছে তাদের চাওয়াটা কি? জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা অবগত আছেন। আপনারা জানেন, বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী চলছে না। রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে নেই। যে সরকার দেশ চালাচ্ছে, সেটা জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত না। একটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান পার্লামেন্ট গঠন করা হয়েছে। সূত্রমতে, ড. কামালের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রবার্ট মিলার বলেন, আপনারা তো সেই পার্লামেন্টে গেছেন। এখন কি বুঝছেন? জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, এই সংসদকে তো আমরা সংসদই মনে করি না। তারপরও যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সংসদে গেছেন গণতন্ত্র চর্চার ন্যূনতম সুযোগটুকু কাজে লাগাতে। তারা সেখানে যতটুকু সুযোগ পাচ্ছেন কথা বলছেন। কিন্তু এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন। আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে এ সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যাতে তারা দ্রুত একটা নির্বাচন আয়োজন করে।
সূত্রমতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কূটনীতিকদের বলেন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দেশের স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়ার মুক্তি অত্যন্ত জরুরি। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে থেকেই এ ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।
ড. কামাল হোসেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পাশাপাশি আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ড. মঈন খান বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, সমপ্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার। সেই উদ্যোগের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরকে সম্পৃক্ত করে গতকাল বুধবার বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি।
