অবশেষে হংকংয়ে প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহার, জয় বিক্ষোভকারীদের

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১০

তিন মাসের বেশি সময় টানা বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলো হংকং সরকার। গতকাল চীন শাসিত অঞ্চলটির প্রধান নির্বাহী ল্যারি ক্যাম প্রত্যর্পন বিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বড়ো ধরনের জয় পেলেন বিক্ষোভকারীরা। ল্যাম্প বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানালেও অন্যান্য দাবির বিষয়ে কিছু বলেননি। এই বিলকে কেন্দ্র করেই আন্দোলন শুরু হয় হংকংয়ে যা চলছে। খবর বিবিসি ও ডেইলি মেইলের

গতকাল বুধবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে ক্যারি ল্যাম বলেন, জনগনের উদ্বেগের কথা চিন্তা করে সরকার প্রত্যর্পন বিলটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করবে। আগেই রেকর্ড করা ভাষণে ক্যারি ল্যাম বলেন, চলমান বিক্ষোভ হংকংবাসীকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। হংকংকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, সহিংসতা কখনো সমাধান নিয়ে আসতে পারে না। তাই আমাদের প্রথম চেষ্টা হবে সহিংসতা থামানো এবং সমাজকে পুনর্গঠন করা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রধান নির্বাহী জানান, তিনি এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের কাছে যাবেন এবং তাদের উদ্বেগের কথা শুনবেন। তবে বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং পুলিশি অত্যাচারের তদন্ত প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, কোনো স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না। এতদিন যেভাবে তদন্ত হচ্ছে সেভাবেই হবে। অন্যান্য দাবিও নাকচ করে দিয়েছেন ক্যারি ল্যাম।

এর আগে বিলটি স্থগিত করে হংকংয়ের বেজিংপন্থী প্রশাসক বলেছিলেন, এর অর্থ বিলটি বাতিল হওয়া। কিন্তু তাতে ক্ষোভ দূর হয়নি। বিক্ষোভ চলতে থাকে। এই পর্যন্ত হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ল্যাম বেইজিংকে বিল বাতিলের কথা জানালে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি জানান, সেক্ষেত্রে তার সামনে পদত্যাগ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এরপরই বুধবার বিলটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ল্যাম। বেইজিংপন্থিরা এই ঘোঘণাকে ইতিবাচক বললেও বিরোধীরা বলেছেন, অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন একটি দাবি মেনে নেওয়ায় বিক্ষোভ থামবে বলে মনে হয় না।