ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কানারচর এলাকায় দরিদ্র ও পথশিশুদের জন্য সন্ধ্যা নদীর ওপর বাঁশ, প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভাসমান স্কুল। মালেকা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রজেক্টের আওতায় নির্মিত হয়েছে এ স্কুলটি। সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এ স্কুলটি উভচর প্রকৃতির। স্কুলটি শুষ্ক মৌসুমে মাটিতে স্থাপন করা যায় এবং বর্ষায় এটি পানিতে ভাসতে সক্ষম। এ স্কুলটির নান্দনিক ও শৈল্পিক স্থাপত্যের কারণে স্কুলের স্থপতি সাইফ-উল হক পেয়েছেন আগাখান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার পুরস্কার ২০১৯। এর আগে ২০১৬ সালে দুই বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম ও কাশেফ মাহবুব চৌধুরী জিতে নিয়েছিলেন এ আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেরানীগঞ্জের আলিপুর ব্রিজের পশ্চিমপাশে সন্ধ্যা নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে নির্মিত হয়েছে বাঁশের তৈরি স্কুলটি। স্কুলটি প্রায় দেড়শো ফুট লম্বা ও পঁয়ত্রিশ ফুট চওড়া। স্কুলে রয়েছে শিশুদের লেখাপড়ার সব সুযোগ সুবিধা। উভচর এ স্কুলে শিশুদের পাঠদানের জন্য তিনটি কক্ষ ছাড়াও রয়েছে শিশুদের খেলার জায়গা ও টয়লেট। শ্রেণিকক্ষের নামগুলোও বেশ চমত্কার সিন্দু, বিন্দু ও কণা। এছাড়াও রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। সবচেয়ে চমত্কার বিষয় হচ্ছে স্কুলের সম্পূর্ণ অবকাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে বাঁশ, দড়ি ও প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে। আর এ প্রযুক্তির কারণেই মিলেছে আগাখান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার পুরস্কার ২০১৯। স্কুলটিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য রয়েছে বাঁশের তৈরি র্যাম্প যদিও বৃষ্টিতে সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। স্কুলের টয়লেটের বর্জ্য ফেলার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত হয়েছে প্লাস্টিক ট্যাংকার। এ ট্যাংকারটি স্কুলের মূল অবকাঠামোর মতোই উভচর। স্কুলের পরিচালক মো. সালাম মিয়া জানান, ঢাকার নবাবগঞ্জের রাজিয়া আলম এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন।
