মাদক কারবারিকে ক্যাম্পে নিতে গিয়ে ব্যারিকেডের মুখে র্যাব

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:৪৩

মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের অবৈধ অস্ত্র ও মাদককারবারি ইউসুফ হাসান ওরফে ইউসুফ ফকিরকে (৪০) মাদকসহ র্যাব-১১ গ্রেফতার করেছে। তাকে আটকের পর সহযোগীরা প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে গাছ, সিমেন্টের খুঁটিসহ নানা কিছু ফেলে এবং পাটখড়ির স্তূপে আগুন ধরিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতসব বাধা পেরিয়ে ইউসুফ ফকিরকে গ্রেফতার করে র্যাব ক্যাম্পে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইউসুফ ফকিরকে শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকূলে র্যাব-১১ ক্যাম্পে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল এবং তার দেওয়া তথ্য মতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রস্তুতিও চলছিল। 

সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুরে গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ মামলার আসামি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রার্থী ইউসুফ হাসানকে পাকড়াও করে র্যাব-১১। তার কাছ থেকে ৪০৫ পিচ ইয়াবা, দুই বোতল বিয়ার, মাদক বিক্রির ৬ লাখ ৮ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী মিল্টন মল্লিক, জাহাঙ্গীর সরকারসহ সাত/আট জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ইউসুফ হাসান মহেশপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়া ফকিরের পুত্র।

র্যাব-১১র কমান্ডার পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, চরাঞ্চলের মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরের মহেশপুরের বাড়িতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তাকে মাদক ও মাদক বিক্রির টাকাসহ আটক করা হয়। তবে তার সহযোগীরা তাকে ছাড়িয়ে নিতে নানা তাণ্ডব চালায়। ৩ কিলোমিটার সড়কের অন্তত ২০টি পয়েন্টে গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে ব্যারিকেড দেয়। সিমেন্টের খুঁটিসহ নানা কিছু ফেলে রাস্তা বন্ধ করারও অপচেষ্টা চালায় তারা। জায়গায় জায়গায় পাটখড়ি ফেলে অগ্নিসংযোগ করে র্যাবের পথরোধ করার চেষ্টা করে তারা। এমনকি নারীরা পর্যন্ত র্যাব সদস্যদের ঘেরাও করার চেষ্টা করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে সব বাধা অতিক্রম করে ইউসুফ হাসানকে গ্রেফতার করে ক্যাম্পে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় র্যাব-১১র সদস্যরা।

এদিকে খবর পেয়ে রাতেই সদর থানা পুলিশের একাধিক টিম মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর ও আশপাশ গ্রামে অবস্থান নেয়। গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ইউসুফ হাসানকে গ্রেফতার করার পরপরই তার সহযোগীরা একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। র্যাব এলাকায় অবস্থান করার সময় পুরুষরা নিরাপদ দূরত্বে থাকলেও মহিলাদের আসামি ভাগিয়ে নেওয়ার তত্পরতা লক্ষ্য করা যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল খন্দকার আশফাকুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে রাতেই সদর থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর ও আশপাশের গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমান জানান, ইউসুফ ফকিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।