ঢাকা সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এ সংকটের একমাত্র সমাধান। তবে একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়টির সমাধান হওয়া জরুরি। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, মুসলিম বিশ্বের সংকট, কাশ্মীর ও আসামের এনআরসিসহ সমকালীন বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।
জারিফ বলেন, নিজেদের অনেক সমস্যা সত্ত্বেও লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতা দেখিয়েছে। এখন মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে কেবল অঙ্গীকার নয়, রোহিঙ্গা সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধানে দৃশ্যমান পদক্ষেপ মিয়ানমারকেই নিতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বোঝা বিশ্ববাসীর সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নেওয়া জরুরি। ইরান শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় প্রতি বছর প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার নিজভূমে প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশের পাশে আরো জোরালোভাবে দাঁড়ানো। কাশ্মীর ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সেখানে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি দেখতে চাই না। ভারত আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। কাশ্মীর এবং আসামের এনআরসি ইস্যুতে ইরান উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্ধু হিসেবে এ দুই ইস্যুতে আমরা আরো বেশি সংলাপ দেখতে চাই।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জারিফ বলেন, এটাকে আমরা অবরোধ বলি না। এটা তাদের ‘বাড়াবাড়ি’ বলেই মনে করি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকট উত্তরণে ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
