নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:২১

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেদের সংখ্যালঘু না ভাবতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই দেশে জন্মগ্রহণ করে কেন নিজেদের সংখ্যালঘু বলবেন? এটা আপনাদের জন্মভূমি। তাহলে আপনারা নিজেদেরকে ছোটো করে এইভাবে সংখ্যালঘুভাবে দেখবেন কেন? জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, কোনো জাতিগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘু নয়, দেশের নাগরিক ভাবতে হবে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবাই সমান সুযোগ ভোগ করবে। গণভবনের মাঠে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ বাংলাদেশ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নেতারা ছাড়াও সারাদেশ থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর নিপীড়নের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্য বিএনপি-জামায়াতের চরিত্রটাই এ রকম। আপনারা জানেন তারা কীভাবে অত্যাচার করে।

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের

মাস্টারপ্ল্যান দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেত্রকোনায় ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যানের একটি পাওয়ার-পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেখেছেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রেজেন্টেশন দেখে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। ২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ একর জমিতে এ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২১ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১ হাজার আসনবিশিষ্ট চারটি হল থাকবে, যাতে ২ হাজার ছাত্র ও ২ হাজার ছাত্রী থাকতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০টি ডিপার্টমেন্টে ২০০ শিক্ষক ও ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সাজ্জাদুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকউল্লাহ খান, সিন্ডিকেট সদস্য ড. ফখরুল আলম, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. সুব্রত কুমার আদিত্য ও রেজিস্ট্রার কাজী নাসির উদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রক্ত ঝরাচ্ছে মুসলমানরা

সুবিধা নিচ্ছে অন্যরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে রক্ত ঝরাচ্ছে। আর এ থেকে সুবিধা ভোগ করছে অন্যরা। গতকাল বুধবার ঢাকা সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য দরকার। মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে সংঘাত বন্ধে ওআইসিকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমানদের মধ্যে সংঘাত বন্ধে ওআইসির এগিয়ে আসা উচিত। এসময় বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। জোরপূর্বক বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা প্রায় ১ লাখ সন্তান জন্ম দিয়েছে বলে জানান তিনি। ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বাংলা ভাষায় অনেক ফারসি শব্দ থাকার কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

মুসলিম দেশগুলোকে অস্ত্রের পেছনে অর্থ খরচ না করে তা জনকল্যাণে ব্যয় করার আহ্বান জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা অস্ত্রের জন্য টাকা খরচ করতে চাই না। এ টাকা দিয়ে জনকল্যাণ করতে চাই। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এসব হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ইরান সেমিনার করবে বলেও জানান তিনি। ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন জাভেদ জারিফ। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রাজা নাফার উপস্থিত ছিলেন।