উেস কর কর্তনে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান গণ্য হবে খেলাপি করদাতা হিসেবে

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০২

রিয়াদ হোসেন

কোনো বিল পরিশোধ, বেতন কিংবা অন্য কোনো সেবার বিপরীতে অর্থ পরিশোধসহ ৫৫ ধরনের খাতে অর্থ পরিশোধকালে উেস কর কর্তনের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, উেস কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক নিয়মে কর কর্তন করছে না কিংবা কর্তন করলেও ওই অর্থ সরকারের ঘরে জমা দিচ্ছে না। এ তালিকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। উেস কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠান ওই যথাযথভাবে কর আদায় করে কর অফিসে জমা দিতে ব্যর্থ হলে ওই প্রতিষ্ঠান কর খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে। ওই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এজন্য ‘ব্যক্তিগতভাবে’ দায়ী হবেন। সেই সঙ্গে কর্তনযোগ্য আয়করের সব অর্থ ওই ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করা হবে। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগ এ বিষয়ে একটি স্পষ্টীকরণ জারি করেছে।

বর্তমানে দুই লাখের উপরে বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ওই করের অর্থ আদায়ের বিধান রয়েছে। আদায়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো উেস কর কর্তনকারী হিসেবে পরিচিত। সূত্র জানিয়েছে, অনেক উেস কর কর্তনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে এনবিআরের শত শত কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ অর্থ আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে এনবিআর চেষ্টা করে আসলেও তাতে কার্যকর ফল মিলছে না। কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, উেস কর আদায়ের বিষয়ে সঠিক তথ্য না থাকায় ওই অর্থ আদায় করা সম্ভব হয়নি। এ প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।

এনবিআরের ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়, আয়কর অধ্যাদেশ বর্ণিত সুনির্দিষ্ট খাত হতে উেস আয়কর কর্তন ও সংগ্রহ এবং ওই কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু যথাযথভাবে ওই কর কর্তন না করার বিষয়টি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর কর্মকর্তাদের কর সংক্রান্ত আইনগত বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষত উেস কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিমাসে উেস কর কর্তনের বিস্তারিত বিবরণী সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিলের বিষয়টিও নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বর্তমানে বিভিন্ন হারে উেস কর আদায়ের বিধান রয়েছে। উেস কর্তিত কর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বছর শেষে রিটার্ন দাখিলকালে সমন্বয় করার সুযোগ রয়েছে। তবে যাদের কর সনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন নেই, তাদের পক্ষে ওই অর্থ সমন্বয়ের সুযোগ থাকে না। সরকারের আদায়কৃত করের ৬০ শতাংশের উপরে অর্থ আদায় হয় উেস কর খাত থেকে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, উেস কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কর আদায় না করা কিংবা জমা না দেওয়ায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বর্তমানে ৫৫টি খাতের অর্থ পরিশোধকালে উেস প্রযোজ্য আয়কর কর্তন করতে হয়। এ তালিকায় রয়েছে নির্দিষ্ট অংকের উপরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বেতন পরিশোধ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিল পরিশোধ, সিকিউরিটিজের সুদ পরিশোধ, কোনো চুক্তি সম্পাদনের বিল পরিশোধ, রয়্যালিটি, লাইসেন্স ইস্যুর বিপরীতে ফি, ব্র্যান্ড মূল্য, প্যাটেন্ট, ট্রেডমার্ক, পরামর্শক সেবা, পেশাজীবী বা কারিগরি সেবার বিল, সিএন্ডএফ এজেন্টদের কমিশন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ, সঞ্চয়পত্রের সুদ, শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের সুবিধাভোগীকে পরিশোধকালে, ইট প্রস্তুতের অনুমোদন প্রদানকালে, ঋণপত্রের কমিশন, ট্রাভেল এজেন্ট, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নকালে, ফ্রেইট ফরোয়ার্ড এজেন্সির কমিশন, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্, সম্মেলন কক্ষ বা কনভেনশন হলের ভাড়ার অর্থ পরিশোধকালে। এছাড়া কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সেবার বিপরীতে আয়, আন্তর্জাতিক ফোন কলের ক্ষেত্রে, জীবন বীমার প্রিমিয়াম প্রদানকালে, স্থানীয় ঋণপত্র ক্রয়ের মাধ্যমে বিল প্রদানকালে, আমদানি, গৃহসম্পত্তির ভাড়া প্রদান, নৌ ব্যবসা, জনশক্তি রপ্তানি, রপ্তানি আয়, স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য, শিল্প ও প্রযোজককে পরিশোধকালে, কুরিয়ার ব্যবসা, রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনা, কমিশন, ছাড় ও ফি, সঞ্চয় ও স্থায়ী আমানতের বিপরীতে সুদ, আবাসন ব্যবসা, বীমার কমিশন, সম্পত্তি হস্তান্তর, শেয়ার হস্তান্তর, ভূমির মালিককে অর্থ প্রদানকালে, লভ্যাংশ, লটারির আয়সহ আরো বেশকিছু খাত রয়েছে এ তালিকায়।