হিমালয় কফিন

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৪১

তোমাকে অক্ষত শিকার করে আনবে বলে

ক্ষুধাতুর অপেক্ষারা ইরোসের তীর হয়ে

রাতদিন ছুটে যায় অবরুদ্ধ ছিটমহলে।

প্রতিবার ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে আসে তারা।

ফিরে আসে নতমুখ বুমেরাং হয়ে।

আমূল বিদ্ধ হয় আমার অশক্ত শরশয্যায়।

 

তোমাকে ছুঁবে বলে বিপন্ন ইচ্ছারা অদেখা

উকুন হয়ে শরণ নেয় তোমার বেণিবদ্ধ চুলে।

গুটিসুটি মেরে বসে থাকে তারা অভুক্ত, উপদ্রবহীন।

নিবিড় নিড়ানিতে তবু প্রতিবার বিযুক্ত হয়ে

মারা পড়ে তারা, বিপন্নতর বিরহে। আমাকে

উপহার দেয় এক হিমালয় কফিন।

 

ভক্তের একাগ্র ধ্যানে কেঁপে উঠতো

দেবালয়, রামায়ণ যুগে। সানুগ্রহ

স্বর্গের দেবী পা রাখতো মর্ত্যে। বরদানে

ভরে দিতো পূজারীর করপূট।

আশিস-আলোর ঝলকেই বিলকুল

বিগলিত হতো মৃত্তিকামানব।

তোমার মুহূর্তেক দর্শন চেয়ে হূদপিণ্ডের

প্রতিকোষ আজ ব্যাকুল মেঘনাদ।

তোমাকে নিয়ে মেঘের আড়ালে লুকাবে

বলে অনুক্ষণ নিমগ্ন সে অনুনয়ী ধ্যানে।

অথচ কাপুরুষ লক্ষ্মণ কিনা এখন তার

সাক্ষাত্ যমদূত। সুদক্ষ ফাঁসুড়ের মতো

দাঁড়িয়েছে সে। দাঁড়িয়েছে

সামনে নয়, পেছনে।