বন্যায় ৪০ কিলোমিটার পাকা ও ২৫০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪৪

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যায় শরীয়তপুরে ২৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাকা সড়ক ৪০ কিলোমিটার আর কাঁচা সড়ক রয়েছে ২৫০ কিলোমিটার। পাকা ও কাঁচা সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর পানি শরীয়তপুরের সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপত্সীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এ কারণে নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৬০টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছিল। ওই গ্রামগুলোর বিভিন্ন পাকা ও কাঁচা সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এতে ৪০ কিলোমিটার পাকা ও ২৫০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে নড়িয়া-জাজিরা সড়কের পাঁচটি স্থানে বন্যার পানি ওঠে ঐ স্থানগুলো ভেঙে গেছে। এ কারণে  এক মাস যাবত্ যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নড়িয়া-জাজিরা সড়কের ভ্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক লোকমান হোসেন বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চালাই। বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারছি না। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি।

নড়িয়ার পাচুখাঁর কান্দি গ্রামের বরকত আলী বলেন, বিভিন্ন কাজে দিনে অন্তত চারবার উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। বন্যার পানির তোড়ে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলছে না। আমাদের হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দ্রুত ভাঙা সড়ক মেরামত করা না হলে মানুষ চরম বিপাকে পড়বে।

জাজিরার বিলাশপুরের কাজিয়ারচর গ্রামের ইমরান হোসেন বলেন, বন্যার পানিতে আমাদের গ্রামের চলাচলের রাস্তাটি তলিয়ে গেছে। কাঁচা রাস্তা পানি নেমে যাওয়ার পর ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা সম্ভব হবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, পদ্মার পানি বিপত্সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এ কারণে বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে গিয়েছিল। এখন কমছে।

শরীয়তপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনন্দ কুমার ঘোষ বলেন, বন্যার পানিতে যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।