চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং এর সক্ষমতা বাড়াতে বে-টার্মিনালের বিকল্প নেই। দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন জরুরি। চট্টগ্রামের উন্নয়নের সাথে এতদাঞ্চলের উন্নয়ন নির্ভর করছে। গত বুধবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সদস্যরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানসহ সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ৬০ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বে-টার্মিনাল নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে এবং দ্রুত সম্পন্ন করতে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বে-টার্মিনাল দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত কর্ণফুলী ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন করতে হবে। বেসরকারি আইসিডি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তা কার্যকর করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যাবে না তা কেন গ্রহণ করা হবে। বহির্নোঙরে জাহাজের অবস্থানকাল এখনো বন্দরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী বলেন, যে সকল এলাকা বন্দরের সম্প্রসারণ কাজে ব্যবহার করা যেত সেই সকল এলাকায় বেসরকারি আইসিডির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি আইসিডি শহর থেকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে।
চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে শহরের সড়ক টেকসই করা যাচ্ছে না। বিমান বন্দর সড়কে বেসরকারি আইসিডির ট্রাক, লরি দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বেসরকারি আইসিডি শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নিতে হবে। বে-টার্মিনাল এবং সিডিএর আউটার রিং রোডের কাজ দ্রুত সম্পন্নের আহ্বান জানান মেয়র। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, নগরীর যানজট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ বিগত উপদেষ্টা কমিটির ১২তম সভার সিদ্ধান্তসমূহের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৭০ থেকে ৬৪-তে উন্নীত হয়েছে। বে-টার্মিনালের কাজের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। পতেঙ্গা টার্মিনালের কাজ ইতিমধ্যে ৩২ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবে। সম্প্রতি ইউএস কোস্ট গার্ড বন্দরের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলম চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে কনটেইনার জট কমাতে আমদানিকারকদের কনটেইনার খালাস এবং অকশন কনটেইনারের ব্যাপারে তার গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানান। বন্দরের টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বন্দরের ভেতরে ট্রাক, লরি প্রবেশ বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বৈঠকে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ওয়াসিকা আয়েশা খানসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে ব্রিফিং করেন।
