আপনি কেমন আছেন?

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪০

সাধারণ মানুষের আয় কম, ব্যয় বেশি অবস্থা। সব মিলিয়ে আপনি কেমন আছেন, কেমন যাচ্ছে দিনকাল? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ই-মেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো

সাধারণ মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিদিন যে হারে বাড়ছে তাতে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় ঘটাতে না পেরে মানুষ দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভুগছে। আবার কখনো তারা অনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত হচ্ছে। আমাদের সমাজব্যবস্থায় চাহিদার ব্যাপকতায় হাবুডুবু খায়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের সংস্কৃতি ধারা ত্যাগ না করলে অশান্তি বাড়বেই। বাস্তবতা হলো, সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গতি রাখতে না পেরে অসহায় পরিস্থিতিতে নিমজ্জিত। এভাবে কি ভালো থাকা যায়?

মো. আব্দুর রাজ্জাক নাছিম

নির্বাহী পরিচালক, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

দেশের মানুষের আয় বাড়ছে। চরম নিন্দুক ছাড়া কেউ এ সত্যটি অস্বীকার করবেন না। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় যেহারে বাড়ছে তাতে হিসাব মেলাতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। তাদের আয় গত এক বছরে যতটুকু বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। দেশের মানুষের মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় বেড়ে ৩২ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ ব্যক্তি নিজের পকেট থেকে খরচ বরে। চিকিত্সা ব্যয় মেটাতে গিয়ে বছরে চার শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। সোজা কথায় লাভের গুড় পিঁপড়ায় তো খেয়ে যাচ্ছেই, উপরন্তু সঞ্চিত অর্থেও টান পড়ছে।

অমিত বণিক

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক

উত্তরা, ঢাকা।

আমি এক জন সরকারি চাকরিজীবী, বদলিজনিত কারণে ১৯৮৮ সাল থেকে পরিবারসহ বিভিন্ন জেলায় বসবাস করে আসছি। সেই সময়কার বেতন থেকে বাড়িভাড়া, কাঁচাবাজার এবং পরিবারের সীমিত খরচ মিটাতে কষ্ট হতো। আজ চাকরি জীবনের শেষবর্ষে এসে পরিবারের চার সদস্য  নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে সংসারের ব্যয় মিটাতে চাকরি জীবনের শুরুর মতোই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া  বয়সজনিত রোগব্যাধির চিকিত্সা ব্যয় তো আছেই। সবশেষে উক্ত বিষয়ে আমার মতামত হলো সাধারণ চাকরিজীবীদের বেতনভাতা আরো না বাড়ালে  জীবনমান উন্নত করা সম্ভব হবে না। এখানে বলে রাখি আমার পরিবার ছোটো রাখার ইচ্ছা ছিল বলে হয়ত কিছুটা রক্ষা তা না হলে যা হওয়ার তাই হতো। তো আল্লাহ যেভাবে রেখেছেন আলহামদুলিল্লাহ। ধন্যবাদ।

মহিউদ্দিন,

মিরপুর, ঢাকা।

এককথায় ত্রাহি মধুসূদন দশা আমার মতো আয় কম, ব্যয় বেশি যাদের। বছরান্তে বেতন বাড়ে না, কিন্তু পণ্যের দর-দাম বেড়েই চলে প্রতিনিয়ত। আমার মতো যারা চাকরি করে সংসার চালায় তাদের বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুত্ ও গ্যাস বিল দিয়ে সংসার চালাতে মাস শেষে নিয়মিতই অফিস কলিগ বা নিকট স্বজনদের কাছে হাত পাততে হয়। প্রতি বছর যদি ১৫-২০ শতাংশ হারে বেতন বাড়ত, পণ্যের দর-দাম যদি নিয়ন্ত্রণে থাকত, তবে নিশ্চয় কিছুটা ভালো থাকার উপায় খুঁজে পেতাম।

মো. ফখরুল ইসলাম (টিপু)

সেনবাগ, নোয়াখালী। 

মানুষ মাত্রই স্বপ্ন আছে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে, ব্যর্থতা আছে, হতাশা আছে। গুণিজনেরা বলেন, যে মানুষ তার স্বপ্নকে বাস্তবরূপ দিতে পারে সে-ই জীবনে সফলতা লাভ করে। যার স্বপ্ন যত বড়ো হয়, মানুষ হিসেবে সে তত বড়ো হয়। মানুষ ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়ো নয় কিন্তু ইচ্ছে করলে এক জন মানুষ তার স্বপ্নকে ছাড়িয়ে স্বপ্নের চাইতেও বড়ো হতে পারে। প্রকৃত স্বপ্ন কখনো মানুষকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয় না, দিতে পারে না। স্বপ্নপূরণই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য না হলেও স্বপ্নকে ত্যাগ করে নয়, স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের চলা উচিত। স্বপ্ন ছাড়া জীবন অর্থহীন। পরিশেষে বলতে পারি, ‘এই বেশ ভালোই তো আছি’।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

চতুর্মুখী ব্যয় বৃদ্ধির চাপে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। নিত্যপণ্যের দাম, বাড়ি ভাড়া, ডাক্তারের ফি, হাসপাতাল খরচ, সাংসারিক খরচ—এসবের খরচ মধ্যবিত্তের জীবনে প্রভাব ফেলে। মধ্যবিত্ত সমাজের প্রত্যাশা সীমিত, কিন্তু দুঃখজনক হলো— দেশে ভোগবাদীদের অবারিত সুযোগ-সুবিধায় অনেকটা কোণঠাসা হয়ে না ঘরকা, না ঘাটকা অবস্থায় ঝিম মেরে আছে মধ্যবিত্ত সমাজ। সমাজে উচ্চবিত্তদের প্রভাব বাজার মূল্যকেও প্রভাবিত করে। যার জের টানতে হয় মধ্যবিত্তকে। সন্তানদের স্কুলে প্রতিবছরই বেতন বাড়ায়, সন্তানের শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে চিকিত্সা ব্যয়। আয় কম ব্যয় বেশি, এমতাবস্থায় কোথায় যাবে সাধারণ মানুষ? সব মিলিয়ে আমরা ভালো নেই বলতে হয়।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

হকভিলা, মেরাদিয়া,

সিপাহীবাগ, ঢাকা।

আমাদের দেশে সবশ্রেণি ভালো নেই একথা সত্য। যেমন সাধারণ নিম্নআয়ের লোকজনসহ গ্রামের কৃষকেরা। কৃষকরা স্বাধীন হলেও আজো তারা সেই নিয়মতান্ত্রিক বেড়াজাল থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। তাদের অনেক কিছুই এখনো ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। অন্যদিকে তাদের ন্যায্যমূল্য এখনো ঠিক হয়নি। তাই সব মহলকে ভালো রাখতে দেশের মাননীয় সরকার প্রধানকে সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাব মোতাবেক দেশে নির্ভরশীল মানুষের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৫৪ ভাগ। দেশের জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হিসেবে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। এবার সরকার চালু করতে যাচ্ছে সবার জন্য পেনশন। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকারও বৈকি। সেজন্য বর্তমান সরকার প্রশাংসার দাবিদার। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা দেশের সব মানুষ ভালো অবস্থায় থাকুক।

আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার

দেশের অনেক মানুষ ভালো নেই। সংকটকে অস্বীকার করা যাবে না। সংকট সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। বৃহত্তর জনস্বার্থে সর্বস্তরের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় অসত্ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এটাই হোক আজকের মূলমন্ত্র।

মো. শহীদুল ইসলাম

নিশিদারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া

সব মানুষ ভালো নেই—একথা স্বীকার করতেই হবে। শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়! সামাজিকভাবেও ভালো নেই। প্রকাশ্যে এত মানুষ হত্যা, ধর্ষণ, গুম, খুন, লুণ্ঠন, ডাকাতির  মতো ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটছে। এটা দুঃখজনক। তাই অর্থনৈতিক ও সামাজিক দুদিক ভালো থাকলে মানুষ ভালো থাকবে এটা সত্য।

রাসেল আহমেদ

মুগদা, ঢাকা

আজকাল অনেকটাই ভালো নেই। চাকরিজীবীদের ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে স্বামী ও দুই মেয়ে নিয়ে বসবাস। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি অনেকটা সামাল দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সামাজিক অস্থিরতা রয়েছে। দেশে সর্বোত্র চুরি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, লুটপাট দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। যদিও সরকার প্রধান এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে এই অস্থিতিশীল সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে বেরিয়ে আসতে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রেই দর্শনচেরি আবশ্যিক হয়ে পড়েছে।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

সাধারণ মানুষের আয় কম, ব্যয় বেশি—এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী নিয়ে অনেক পরিবারই আজ হিমশিম খাচ্ছে। ভালো নেই। তাদের চোখে-মুখে আজ অভাব ও কষ্টের গ্লানি দৃশ্যমান। তারা সহসাই বলতে পারছে না। জীবন ও জীবিকার স্বার্থে তাদের বর্তমান অবস্থা অনেক অসহনীয়।

মো. আরিফুর রহমান

দেলপাড়া, নারায়ণগঞ্জ

‘সুখের দিনগুলি দূরে সরে যায়, পুরোনো দিনের কথা মনে রেখো না’—শিল্পীর কণ্ঠে সেই গানটি সত্যি বাস্তব নিরীখে আজ মনে হচ্ছে ভুল নয়। আজ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আগের চেয়ে অনেক ব্যয় বেড়েছে। তাদের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো মিল নেই। মুখ বন্ধ করে নীরবে-নিভৃতে অশ্রুবিসর্জন করে চলেছে। কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছে না। বিপদে দাঁড়ানোর মতো পাশে লোক নেই।

সুগন্ধী আক্তার

মতিঝিল, ঢাকা

সমস্ত রকম ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা ভেঙে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও কর্মক্ষেত্রে কৃষি, মত্স্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, নির্মাণ কাজে ও গার্মেন্টস শিল্পে জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনেকাংশে উন্নত ও বিলাসী জীবনের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আল্লাহপাক সুরা এনামে বলেছেন, আকাশ ও পৃথিবীর আল্লাহকে স্রষ্টা ছাড়া অন্যকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে তারাই খাদ্য, বস্ত্র ও স্থানের অভাব অনুভব করে। কাজেই আল্লাহ ওপরে সম্পূর্ণ বিশ্বাসী বলে এবং খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান আল্লাহপাকই ব্যবস্থা করেছেন। এই বিশ্বাস আছে বলেই আমরা ভালো আছি। অথবা বাংলার মানুষ সুখে আছে।

হাজী খায়রুল কবির

সভাপতি

বয়স্ক কল্যাণ সমিতি

১০/এ, রোড নং-৬, মিরপুর-১০,

ঢাকা-১২১৬

ছিলাম তো ভালো এখন ভালো নেই। যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। বাজারে জিনিসপত্রের দামে উচ্চগতি। বিশেষ করে পিয়াজ, রসুন, আদা, তরিতরকারিসহ অন্যান্য জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া।

টেলিভিশনে সংবাদে দেখা যায় যে, সাগরে  আর পানি নেই। মত্স্যজীবীদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, কিন্তু বাজারে ঝাটকা ছাড়া আর কোনো ইলিশ চোখে পড়ে না। ইলিশ রফতানি হচ্ছে বিধায় বাংলাদেশের মানুষ ইলিশ চোখে দেখে না।

খন্দকার কামরুজ্জামান

৩৬৩/১০, পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা

আমাদের সমাজে অনেকে আজ ভালো নেই। উচ্চবিত্তরা অর্থনীতিতে ভালো।  যেখানে সামাজিকভাবে ভালো নেই; সেখানে ভ্রাতৃত্ববোধ কম, সহমর্মিতা থাকে না, নিম্নবিত্ত/মধ্যবিত্তদের অবস্থা অর্থনৈতিক-সামাজিক ভাবে ভালো থাকে না। এর থেকে উত্তোরণের জন্য দরকার অহংকার দূর করা ও অর্থনৈতিক মুক্তি।

করিম

রিসোর্স ইন্ট্রিগ্রেশন সেন্টার (রিক),

ধানমন্ডি, ঢাকা

বলা যায়, সরকারি চাকরিজীবী এবং কতিপয় লাখ লাখ টাকার ব্যবসায়ীরা মোটামুটি ভালোই আছেন। বিপদে আছেন আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবার। না পারছে রিকশাভ্যান চালাতে, না পারছে কামলা দিতে। এর প্রধান কারণ বেকার সমস্যা। নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে বলা যায়। তা-ছাড়া সাধারণ মানুষের আয় কম, ব্যয় বেশি। সুতরাং সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষ আজ ভালো নেই।

মো. মোকাদ্দেস হোসাইন সোয়ান

গ্রাম :পাংগাসী চানপারা

রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ