শিল্পসৃষ্টির নিজস্বতা তাকে বহুকাল স্মরণীয় করে রাখবে

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪৯

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান স্মরণসভায় জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, রিজিয়া রহমানের উপন্যাসে মানুষের মন থেকে ইতিহাস ও নৃতত্ত্বের গভীরতর অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি নিম্নবর্গ ও প্রান্তিক মানুষের জীবনকে তার অনেক উপন্যাসের বিষয় করেছেন, আবার মধ্যবিত্ত জীবনও ওঠে এসেছে সুনিপুণ মমতায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়েছে তার অনন্য সাহিত্যকর্ম। রিজিয়া রহমানের লেখনশৈলীর সরলতা ও প্রত্যক্ষতা পাঠকের কাছে তার সমকালে যেমন আদৃত হয়েছে বিপুলভাবে তেমনি শিল্পসৃষ্টির নিজস্বতা তাকে বহুকাল স্মরণীয় করে রাখবে পাঠকের কাছে।

গতকাল বাংলা একাডেমি আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও বাংলা একাডেমির ফেলো রিজিয়া রহমানের প্রয়াণে স্মরণসভার শুরুতেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্মরণসভায় তার জীবন ও সাহিত্য সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা এবং স্মৃতিচারণায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি জাহিদুল হক, লেখক কাজী মদিনা, কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান, কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, কবি মাহবুব আজীজ, কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান, কথাসাহিত্যিক আবু হেনা মোস্তফা এনাম, কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান, কবি পিয়াস মজিদ এবং রিজিয়া রহমানের পুত্র আবদুর রহমান প্রমুখ। স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা মোজাফ্ফর হোসেন।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন কবি রুবী রহমান, কবি কাজী রোজী, ড. মালেকা বেগম, অধ্যাপক গোলাম মুস্তাফা, কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতার, কথাসাহিত্যিক ঝর্না রহমান, কথাসাহিত্যিক আফরোজা পারভীন, ড. মাসুদুজ্জামান, কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল, কথাসাহিত্যিক দিলারা মেসবাহ, ড. নুরুল করিম নাসিম, ড. ইসরাইল খান, লেখক দিল মনোয়ারা মনু, রিজিয়া রহমানের পুত্রবধূ শেরিনা তাবাস্সুম প্রমুখ। রিজিয়া রহমানের পুত্র আবদুর রহমান বলেন, মা একই সঙ্গে ছিলেন একজন ভালো লেখক এবং একজন ভালো মানুষ। তার কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড়ো শিক্ষা হল— সততার শিক্ষা। তিনি সবসময় বলতেন, মানুষের সামনে পথ অনেক কিন্তু গন্তব্য একটাই- মানবিকতা।

একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, রিজিয়া রহমান সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক। আশি বছরের বর্ণাঢ্য সৃজন-জীবনে তিনি গল্প-উপন্যাস-শিশুসাহিত্য-আত্মজীবনী এবং স্মৃতিকথামূলক রচনার মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছেন নতুন অভিমুখ। রিজিয়া রহমানের মতো অমর লেখকের কোনো মৃত্যু নেই, আমাদের সকলের পাঠ ও ভালোবাসার মধ্যে তিনি বেঁচে থাকবেন নিরবধিকাল।