জনসংযোগ বিভাগের ওপর ক্ষুব্ধ ইসি!

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৫১

প্রশিক্ষণে অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উলটো জনসংযোগ বিভাগের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশেষ করে কমিশনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের দায়ে কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই জনসংযোগ বিভাগের সহকারী  পরিচালক (এডি) সাময়িক বরখাস্ত করেছে ইসি। একই অপরাধে জনসংযোগ বিভাগের পরিচালককে ঢাকা থেকে বিদায় করে দিয়েছে। এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, প্রশাসনিক কারণে জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক আশাদুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামানকে ইসি সচিবালয় থেকে সিলেটে বদলি করা হয়েছে। তবে কোনো তদন্ত কমিটি করা হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেছেন ।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সদ্য অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রশিক্ষণের নামে ব্যাপক অর্থ লোপাটের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পত্রপত্রিকায় এবং টেলিভিশনে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন থেকে ইসিকে রক্ষা করতে না পারার জনসংযোগ বিভাগের ওপর ক্ষুব্ধ হয় ইসি কর্তৃপক্ষ।

এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে একটি টেলিভিশন চ্যানেল ইসির নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুকসহ কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রচার করে। সেই প্রতিবেদনের লিংক ইসির নিয়মিত পেপার ক্লিপিংয়ে সংযুক্ত করে ইন্টারনাল সার্ভারে দেওয়ায় তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ ব্যক্তিরা। পেপার ক্লিপিংয়ে ঐ খবরের লিংক সংযুক্ত করেছিলেন জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক আশাদুল হক। এই অপরাধে তাত্ক্ষণিকভাবে গত ৩০ আগস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ঐ পেপার লিংকটি ইন্টারনাল সার্ভার থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে গত ২৮ আগস্ট একই অপরাধে জনসংযোগ পরিচালককে ঢাকা থেকে বদলির সিদ্ধান্ত দেয় ইসি। 

ইসির সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো ধরনের সংবাদ প্রকাশ হলে সাধারণত তা ইসির নিয়মিত পেপার ক্লিপিংয়ে সংযুক্ত করার দায়িত্ব জনসংযোগ বিভাগের। সেই রুটিন ওয়ার্ক করতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন জনসংযোগ বিভাগের দুই কর্মকর্তা। কোনো প্রকার তদন্ত বা শোকজ নোটিশ ছাড়াই ইসির এই ধরনের সিদ্ধান্ত অনৈতিক।

জনসংযোগ পরিচালকের বদলির আদেশে আরো তিন কর্মকর্তার দপ্তর বদল করা হয়। এই আদেশে ইটিআই ডিজিকে ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদারকে ইটিআইয়ের মহাপরিচালক, সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেনকে নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের পরিচালক এবং নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামানকে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা পদে বদলি করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত একাদশ জাতীয় সংসদ ও চতুর্থ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রশিক্ষণের পেছনে প্রায় ১২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন গণমাধ্যম ইসির প্রশিক্ষণ নিয়ে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হলে চরম সমালোচনার মুখে পড়ে কমিশন। বরাদ্দকৃত টাকায় যে প্রশিক্ষণ হয়েছে তাতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে ইটিআই ডিজিসহ নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।