চিকিত্সক হওয়ার স্বপ্ন মরিয়মের

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৩

মরিয়ম যখন ছোট, তখন বাবা তার মাকে ফেলে চলে যান। শুরু হয় মা মাফিয়া বেগমের কঠিন সংগ্রাম। মরিয়মসহ তিন সন্তান তার। শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। চাঁদপুর শহরের তালতলা বকাউল বাড়ি রোডে চাচাতো ভাইয়ের বাসায় ওঠেন তিনি। সেটি ছিল ভাড়া বাসা। পরে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও দু বেলার খাবার জোগাতে বাসায় বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন মাফিয়া। এভাবে চলতে থাকে মরিয়মদের পড়াশোনা।

ছোটবেলা থেকে পড়াশোনায় মেধাবী ছিল মরিয়ম। ফলাফলেও ধরে রেখেছে ধারবাহিকতা। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোলেও পাঠ্যবই থেকে দূরে সরেনি মরিয়ম আক্তার। নিজে কখনো প্রাইভেট পড়েনি, কিন্তু নবম শ্রেণিতে ওঠার পর শুরু করে টিউশনি। সেসময় মায়ের কষ্টটা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারে। তখন থেকে ভাবছিল নিজে কিছু করতে হবে। টিউশনির টাকায় সংসারে সাহায্য করেছে, কাজে লাগিয়েছে নিজের পড়াশোনায়।

এভাবেই চাঁদপুর পৌরসভা পরিচালিত পীর মহসিন উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে এবার মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মরিয়ম আক্তার। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে নিয়ে গর্ব করেন। এই সাফল্য যেন মরিয়ম ও তার মায়ের সুদীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। মরিয়মের মা মাফিয়া বেগম বলেন, ‘মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। সবসময় ধৈর্য ধরে পড়াশোনা করেছে। আমার মেয়েটা যেন বড় হয়ে ভাল মানুষ হয় সেজন্য দোয়া করবেন।’

মরিয়ম আক্তার জানায়, তার জীবনের লক্ষ্য চিকিত্সক হওয়া। সে নিজেকে চিকিত্সাপেশায় নিয়োজিত করে মানুষের সেবা করতে চায়।