আয়রন ব্রিজের সংস্কার

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৮

গত শুক্রবার ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক খবরে বলা হইয়াছে যে, পটুয়াখালীর দুমকিতে অধিকাংশ আয়রন ব্রিজই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ইহাতে স্থানীয় অধিবাসীদের দুর্ভোগের অন্ত নাই। বিশেষ করিয়া সেইসব এলাকার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সবচাইতে বিপাকে পড়িয়াছেন। এই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় জনচলাচলের জন্য গ্রামীণ কাঁচারাস্তা ও ইউনিয়ন কানেক্টিং সড়কের খাল ও নালের ওপর এইসব আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হইয়াছে। এই রকম ব্রিজের সংখ্যা ৪২টি। ব্রিজগুলি স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীন এবং এলজিইডি ইহার তত্ত্বাবধায়ক। বর্তমানে এইসব আয়রন ব্রিজের অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী হইয়া পড়িয়াছে। কয়েকটি ব্রিজের আংশিক ও সম্পূর্ণ স্লিপার ভাঙিয়া পড়িয়াছে। উদাহরণস্বরূপ উপজেলার জনতা কলেজ হইতে দক্ষিণে কার্ত্তিকপাশা মুন্সীরবাজারের সড়কে শরীফবাড়ি সংলগ্ন আয়রন ব্রিজটির কথা বলা যায়। ইহার উভয় দিকের অন্তত দুই তৃতীয়াংশ স্লিপার ভাঙিয়া জনচলাচল বিঘ্নিত হইতেছে মারাত্মকভাবে। এখানকার একজন ইউপি সদস্যের বক্তব্য হইল, তাহারা ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগে বহুবার আবেদন-নিবেদন জানাইয়াছেন। আবার চেয়ারম্যান বলিতেছেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হইয়াছে। এই ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ হইতে প্রকল্পও দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু তাহাতে সাড়া মিলিতেছে না। এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী বলিতেছেন, আয়রন ব্রিজগুলি সংস্কারের প্রকল্প প্রস্তাব প্রধান প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হইয়াছে। বরাদ্দ পাইলে তাহা দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হইবে। এইভাবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সংস্কার কাজ বিলম্বিত হইতেছে এবং এলাকাবাসীর কষ্ট ও দুর্দশা বাড়িয়াই চলিয়াছে।

আমরা বহুবার বেইলি ব্রিজ লইয়া সম্পাদকীয় লিখিয়াছি। কিন্তু এই ব্রিজগুলি সম্পূর্ণ আলাদা। একেবারে প্রান্তিক এলাকায় নির্মিত।  নামেও তাহার সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়। লোহার বিম ও অন্যান্য কাঠামো দিয়া তৈরি হয় এই ব্রিজগুলি। সেখানে পাটাতন হিসাবে ব্যবহূত হয় কাঠের স্লিপার। কোনো কোনো স্থানে ব্যবহূত হয় সিমেন্টের স্লিপার। সাধারণত এই ব্রিজ দিয়া জনগণ পায়ে হাঁটিয়া পার হন। চলাচল করে কম ওজনের হালকা যান। এই আয়রন ব্রিজগুলির নিয়মিত সংস্কার বা মেরামত জরুরি। এইজন্য আলাদা বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। অথবা টিআর, কাবিখা ইত্যাদি হইতেও ইহার টুকিটাকি মেরামত কাজ করা যাইতে পারে। আর যোগাযোগ স্থাপনের দিক দিয়া যেইগুলির গুরুত্ব বেশি, সেইগুলির স্থলে স্থায়ী পাকা ব্রিজ নির্মাণ করাই যুক্তিযুক্ত। বর্তমান সরকারের আমলে গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগিয়াছে। দেশজুড়িয়া চলিতেছে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। গ্রহণ করা হইয়াছে বড় বড় প্রকল্প। পদ্মাসেতুর মতো বড় প্রকল্প নিজ অর্থায়নেই বাস্তবায়িত হইতেছে। এমতাবস্থায় ছোট-খাট প্রকল্পের বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হইবে না বলিয়াই প্রতীয়মান হয়।  ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করিয়াছেন যে, নূতন করিয়া আর বেইলি ব্রিজ নির্মিত হইবে না। ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজের স্থলে নির্মিত হইবে কংক্রিটের স্থায়ী ব্রিজ। এইজন্য প্রকল্পও গ্রহণ করা হইয়াছে। গ্রামে-গঞ্জে তৈরি বাঁশের সাঁকোগুলি উঠিয়া যাইতেছে। সেইখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মিত হইতেছে স্থায়ী ঢালাই ব্রিজ। অনুরূপভাবে দক্ষিণাঞ্চলসহ যেইসব এলাকায় আয়রন ব্রিজ রহিয়াছে, সেইখানে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করিবার কথা এখন হইতেই ভাবিতে হইবে।