বখাটে সন্তান:দায়ী কে?

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১০

রাজনৈতিক অঙ্গনে অপরাধের দায় এড়ানোর সোজা ও সহজ  উপায় হলো অস্বীকার করা। যতই যুক্তিতর্ক ও প্রমাণ উপস্থিত করা হোক না কেন সবই অস্বীকার করা ব্যক্তির দৃষ্টিকটু, উদ্ভট ও অন্ধত্ব আচরণের কাছে ম্লান। এই রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি এখন আমাদের সমাজেও দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে। যার কারণে আমরা আমাদের সমাজকে বিভ্রান্তি, বিকৃতি ও বখাটেপনায় পূর্ণ এক অবস্থার মধ্যদিয়ে যেতে দেখছি। ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখে আসছি যে আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যত্। কিন্তু আজকালকার ছেলে-মেয়েদের আচার-আচরণে, শিক্ষা-দীক্ষায় তার প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় না।

আমরা এখন আমাদের ছেলে-মেয়েরা বাইরে কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত করার পর অভিযোগ আসলে তাদেরকে সংশোধন করার অভিপ্রায়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে অভিযোগকারীকে ভুল প্রমাণিত করার চেষ্টায় বা তার উপর উল্টো চড়াও হয়ে আমরা আমাদের নৈতিক স্খলনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় আমাদের সন্তানকে।

আধুনিকতার নামে বা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সন্তানদের অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকেও আমরা একটি ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছি। একটু অন্যভাবে যদি বলি, আমরা সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতি দৃষ্টিকটু বা নগ্ন পর্যায়ের সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছি। পথ চলতে চলতে প্রায়শই আমরা মেয়েদেরকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ছেলেদের আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে দেখি এবং সেটা পাশের চলন্ত বা দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের  না দেখার ভান করে উপভোগ করার ব্যাপারটা আরো ভয়াবহ ও ক্ষতিকর। এর মাধ্যমে একটা বিষয় খুব ভালোভাবে পরিষ্কার হয়ে যায় যে আমরা মানুষ হিসাবে সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় কতটা নির্বিকার ও নিরুত্সাহিত। আমরা এই সংক্রমকের মতো ভয়াবহ ভাইরাসরূপী সামাজিক ব্যাধিতে আরো সংক্রমিত হচ্ছি যতই সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলা না করে জিইয়ে রাখছি অন্য কেউ সমাধান করবে এই আশায় বা অবহেলায়।  একই পাড়া বা মহল্লায় বসবাসকারী প্রতিবেশীর সঙ্গে কারণে অকারণে খারাপ আচরণ করা বা ঝগড়া বিবাদে জড়ানো, স্বার্থ হাসিলে অর্থনৈতিক, অনৈতিক বা ক্ষমতার অপব্যবহার করা এবং সামাজিক অবস্থান, পদমর্যাদায় বা পেশাগতভাবে নিম্নমানের মানুষের সাথে অমানুষিক আচরণ করা বা তাদেরকে মানুষ গণ্য না করার সংস্কৃতি সবসময় ভুল বার্তাগুলোই তাদের কাছে পৌঁছে দেয়।

সর্বোপরি, একটি ভালো সমাজ পেতে গেলে সেই সমাজেরই প্রধান উপাদান মানুষগুলোকে আগে ভালো হতে হবে এবং যেই ভালো হওয়ার প্রক্রিয়াটা ছোটবেলা থেকে আরম্ভ হয়। সুতরাং এটা খেয়াল রাখা খুবই জরুরি যে আমরা আমাদের আচার-আচরণ, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তাদের ভুল বার্তা দিচ্ছি কি না। সুতরাং আমাদের সন্তানেরা কেমন হবে তা নির্ভর করে আমরা এবং আমাদের সমাজব্যবস্থা কেমন। কারণ আমরাই সমাজ আর আমাদের প্রতিচ্ছবিই আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে প্রস্ফুটিত হতে দেখবো, যেটা খুবই স্বাভাবিক একটি সমীকরণ।

সুতরাং আমাদের পরিবার ও সমাজকে একত্রে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমন্বিত উপায়ে সন্তানদের বেড়ে ওঠায় ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে অন্যথায় তাদের ব্যর্থতার দায় আমাদের ঘাড়েই বর্তাবে দিন শেষে।

n লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়