দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, চট্টগ্রাম থেকে
নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কয়েকবার জাগলিং করে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা রশীদ খানের ক্যাচটা হাতে রাখতে পারলেন। অবশেষে শেষ হলো আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
মিরাজের এই উইকেট পাওয়ার ভেতর দিয়ে আরেকটা ঘটনা ঘটে গেল—বাংলাদেশের পঞ্চম স্পিনার হিসেবে এই ইনিংসে উইকেট পেলেন তিনি। আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে উইকেট পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম, সাকিব আল হাসান, নাঈম হাসান, মাহমুদউল্লাহ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। আফগানিস্তানের সবগুলো উইকেটই তুলে নিলেন বাংলাদেশের এই পাঁচ স্পিনার। উইকেট পাওয়াদের তালিকায় নাম লেখাতে পারেননি আরো দুই স্পিনার—মুমিনুল হক ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
উইকেট সবাই পান আর নাই পান, বাংলাদেশের একটা অনন্য রেকর্ড হয়ে গেল। এই প্রথম বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে বল করে ফেললেন সাত জন স্পিনার—স্পিন সপ্তক!
স্কোয়াডে এক ঝাঁক স্পিনার থাকাটা উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে পার্ট টাইম স্পিনার বিবেচনায় নিলে ৭-৮ জন স্পিনারকে অনেক টেস্টেই খুঁজে পাওয়া যাবে। পাকিস্তান, ভারত একাধিক টেস্টে এমন দল মাঠে নামিয়েছে, যেখানে ৯ জন পর্যন্ত খেলোয়াড় স্পিন বোলিং করতে পারেন। কিন্তু একটা ব্যাপার খুব বিরল—এক ইনিংসে ৭ জন স্পিনারের বল করে ফেলা। আতিপাতি করে খুঁজেও টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে ৭ স্পিনারের বল করার কোনো নজির এর আগে পাওয়া গেল না।
বাংলাদেশের ব্যাপারটা তো আরো বিরল। বাংলাদেশে এই প্রথম স্কোয়াডে আট জন খেলোয়াড় ছিলেন, যারা স্পিন বল করতে পারেন। নিয়মিত সাত স্পিনারের সঙ্গে সাদমান ইসলামকেও বিবেচনায় নিয়ে এই আট জন দাঁড়িয়েছে সংখ্যাটা। কিন্তু মজাটা ঘটেছে অন্য জায়গায়—এই প্রথম বাংলাদেশের হয়ে সাত স্পিনারই বল করে ফেললেন।
আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ১১৭ ওভারের মধ্যে সৌম্য সরকার ৪ ওভার মিডিয়াম পেস বল করেছেন। বাকি ১১৩ ওভারই স্পিনাররা বল করেছেন। এর মধ্যে তাইজুল ৪১, সাকিব ২২, মিরাজ ২৮, নাঈম ১৩, রিয়াদ ৪, মুমিনুল ৪ এবং মোসাদ্দেক ১ ওভার বল করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে ছয় জন করে স্পিনারের এক ইনিংসে বল করার দুটি নজির ছিল। ২০০৭ সালে কলম্বো টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে ছয় জন স্পিনার বল করেছিলেন। শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ৫৭৭ রান করার পথে বাংলাদেশের হয়ে হাত ঘুরাতে পারতেন, এমন সবাই বল করেছিলেন। এর পরের ঘটনাটিও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৩ সালে গলে ড্র হওয়া টেস্টে আবারও বাংলাদেশের হয়ে ছয় জন স্পিনার বল করেছিলেন।
এবারের চট্টগ্রাম টেস্ট ছাপিয়ে গেল সবাইকে। একে একে ৭ জন স্পিনারই বল করে ফেললেন। তবে প্রশ্ন থেকে গেল—এটা কী আদৌ ম্যাচের জন্য ভালো হলো?
উইকেট প্রথম দুই দিন অন্তত যে আচরণ করল, তাতে অল-স্পিন অ্যাটাক খুব সার্থক হয়েছে বলে মনে হলো না। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের প্রমাণ করার পালা স্পিনারদের।
