পঞ্চগড়ে কাঁচা চা-পাতার দাম কমছে

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪৪

চা চাষিদের ৬ দফা দাবি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের চা-চাষিরা ভালো নেই। কাঁচা চা-পাতার অব্যাহত দরপতনে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। চা-চাষে খরচ বাড়লেও চা-কারখানা মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে ক্রমশ কাঁচা চা-পাতা দর হারাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে জেলায় চা-শিল্প হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চা-চাষিদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড় শহরের শেরেবাংলা পার্ক মুক্তমঞ্চে উত্তরাঞ্চলে কাঁচা চা-পাতার ক্রমাগত মূল্যহ্রাস এবং চা-শিল্প ধ্বংসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে কাঁচা চা-পাতার মূল্যবৃদ্ধির আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিদেশ থেকে অবাধে চা আমদানি নিরুত্সাহিত করা এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চা প্রবেশ বন্ধ করা, পঞ্চগড়ে সরকারি চা-কারখানা স্থাপন করা, কাঁচা চা-পাতার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, চা-চাষি এবং চা-কারখানাকে বিশেষ ভর্তুকি প্রদান, পঞ্চগড়ে ৩য় নিলাম কেন্দ্র স্থাপন এবং আঞ্চলিক চা-বোর্ডে অভিজ্ঞ কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন জনবল নিয়োগ করা।

চা-চাষিরা জানান, পঞ্চগড়ের চা-কারখানা মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চা-চাষিরা। চলতি মৌসুমের শুরুতে ৩৫ টাকা থেকে ৩৮ টাকা কেজিতে চায়ের কাঁচাপাতা বিক্রি হলেও এখন তা ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। সর্বশেষ গত ১৪ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাঁচা চা-পাতার মূল্য নির্ধারণ কমিটির সভায় প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ১৬ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে কাঁঁচা চা-পাতা কেনায় চাষিদের উত্পাদন খরচই উঠছে না। চা-বাগান মালিকদের অন্য খাত থেকে চা-শ্রমিকদের মজুরি ও সার, কীটনাশকের মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। অনেকে ক্ষোভে চায়ের গাছ থেকে কাঁচা চা-পাতা কেটে ফেলে দিচ্ছেন। মন খারাপ করে অনেক চাষিই এখন চা-বাগানের পরিচর্যাও করছেন না।

বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হক খোকন বলেন, আমরা অনেক সহ্য করেছি। চা-শিল্প রক্ষার্থে দাবি আদায়ে আন্দোলন কর্মসূচি ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ খোলা নেই।

তেঁতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু জানান, চা-কারখানার মালিকরা নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে সিন্ডিকেট তৈরি করে মন মতো দাম দিয়ে চা-পাতা কিনছেন। প্রতিবাদ করলে তারা চা-পাতা ক্রয় করেন না। আমরা চা-কারখানা মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি।

বাংলাদেশ চা-বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন এ প্রসঙ্গে জানান, চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলে তৈরি চায়ের নিলাম বাজারে চা বিক্রির গড় মূল্যের ওপর কাঁচা চা পাতার মূল্য নির্ধারণ হয়ে থাকে। নির্ধারিত মূল্যে যাতে কারখানাগুলো চাষিদের কাছ থেকে চা-পাতা ক্রয় করেন সেজন্য কাঁচা চা-পাতার মূল্য নির্ধারণ ও তদারকি কমিটির তদারকি অব্যাহত আছে।

এদিকে নিলাম বাজারে তৈরি চায়ের (মেড টি) দর পতনই কাঁচা চা-পাতার দরপতনের কারণ বলে জানিয়েছেন কারখানা মালিকরা। কাঁচা চা-পাতা ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নেই বলে দবি করছেন তারা। পঞ্চগড়ের মৈত্রী টি ইন্ডাস্ট্রিজের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মোজাহিদুল হান্নান নিপুণ জানান, আমার বর্তমানে ১২ টাকা কেজি দরে কাঁচা চা-পাতা ক্রয় করছি। নিলাম বাজারে চায়ের চাহিদা কম থাকায় উত্পাদনের তুলনায় বিক্রি কম হচ্ছে। এ কারণেই এর প্রভাব কাঁচা চা-পাতার দামে পড়েছে। এখানে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নেই বলে তিনি দাবি করেন।