বন্ধ করা যাচ্ছে না ভারী যানবাহন চলাচল
আশরাফ-উজ-জামান খান, কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা
বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে ভোমরা স্থলবন্দরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পুলেরহাট ভায়া কুমিরা সড়কের নির্মাণকাজ গত বছর শেষ হয়। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ উপজেলার অবহেলিত ১০ লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়। কিন্তু বছর না যেতেই ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তাটি দেবে গিয়ে কার্পেটিং উঠে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জেলা মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করলেও কোনো ফল হয়নি।
যশোর-কালিগঞ্জ ও যশোর-সাতক্ষীরা এ দুটি মহাসড়কের অভ্যন্তরের বিশাল জনপদে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৮ বছরে আর কোনো মহাসড়ক গড়ে ওঠেনি। যার কারণে যশোর জেলার মনিরামপুর, কেশবপুর সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া, তালা খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার লাখ লাখ মানুষ উন্নত যোগাযোগের অভাবে কার্যত বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করত। এখানকার মানুষকে যুগ যুগ ধরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে যেতে হতো। একথা উপলব্ধি করে বর্তমান সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যশোর পুলের হাট থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণে ৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে দুই লেনে প্রশস্তকরণ কাজটি কেশবপুর অংশে ১৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। চারটি প্যাকেজে ২০১৮ সালে কাজটি শেষ করা হয়। রাস্তাটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হওয়ার পরপরই বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দরের পাথর, বালুসহ বিভিন্ন ভারী মালামাল বোঝাই ট্রাক ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল শুরু করে। এসব ভারী ট্রাক, লরি রাত ১০টার পর চলতে থাকে।
সাগরদাঁড়ির আকরাম হোসেন, অলিয়ার রহমান, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সুকান্ত বাবুসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, রাস্তাটি নির্মাণ হওয়ায় ইতিমধ্যে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতসহ কৃষিপণ্য আদান প্রদান সহজ হয়ে ওঠে। ফলে এ অঞ্চলের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যেমন প্রসার ঘটে তেমনি মানুষের জীবনযাত্রার দৃশ্যপটও পালটে যায়। এছাড়া সড়কটি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি হয়ে বয়ে যাওয়ায় মধুমেলায় লাখো মানুষের আগমন ঘটে। কিন্তু রাস্তার ভার বহন ক্ষমতার কয়েকগুণ অধিক ভারী (৫০-৬০ মেট্রিক টন) ট্রাক চলাচলের কারণে ইতিমধ্যে বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঐ সড়কের রঘুরামপুর থেকে বগার মোড় পর্যন্ত রাস্তার ৪৩ জায়গায় ভেঙে গেছে ও ১৭ জায়গা দেবে যাওয়ায় রাস্তার মাঝখান উঁচু হয়ে গেছে। সড়কের বাঁশবাড়িয়া অংশে প্রায় আধাকিলোমিটার ভেঙে ও দেবে গিয়ে জনগণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
কেশবপুর উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুর রহমান বলেন, গ্রামীণ পণ্য পরিবহনে নেটওয়ার্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে এ সড়কের নির্মাণ করা হয়। পাঁচটি উপজেলা ও ১০টি গ্রোথ সেন্টারসহ প্রায় ২০টি গ্রামীণ বাজারের সঙ্গে এ সড়কের সংযোগ স্থাপন হয়েছে। এ সড়কের সঙ্গে বেতগ্রাম, খুলনা-সাতক্ষীরা ও ঢাকা-বেনাপোল সড়কের সংযোগ স্থাপন করা হয়। এছাড়াও মণিরামপুর কলারোয়া উপজেলার মধ্যবর্তী কপোতাক্ষ নদের ওপর খর্দ ব্রিজটি নির্মিত হওয়ায় এই সড়কের গুরুত্ব বহুলাংশে বেড়ে যায়। ঐ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কয়েক দফা উপজেলা ও জেলা মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করেও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না।
