যশোরে শীতকালীন সবজি চাষের ধুম

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫১

যশোর অফিস

শীতের আগমনকে ঘিরে যশোরের গ্রামে গ্রামে সবজি চাষের হিড়িক পড়ে গেছে। জেলার সাতমাইল, বারিনগর, খাজুরা, নোঙ্গরপুর, ঝিকরগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধুম পড়েছে শীতকালীন সবজি চাষে। শীতের শাক-সবজিতে ভরে গেছে মাঠ। কৃষকরা বলছেন, বছরের শুরুতে বৃষ্টি আতঙ্ক থাকলেও এবার মাঠে ফলন ভালো দেখা যাচ্ছে। সবজির ভরা মৌসুম বলা হয় শীতকালকে। যখন হরেকরকম শাক-সবজির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ মেলে। যদিও শীত আসতে এখনো অনেকটা বাকি, তবু এরই মধ্যে গ্রামবাংলায় শোভা ছড়াচ্ছে শীতকালীন বাহারি সবজির খেত।

সবজির রাজধানীখ্যাত যশোর অঞ্চলে চাষ হচ্ছে শীতকালীন আগাম সবজি। যদিও এখন বারো মাস প্রায় সবরকম সবজি পাওয়া যায় এই এলাকায়। তবে এখন মাঠের পর মাঠ চাষ হচ্ছে বাঁধাকপি, লাউ, ফুলকপি, টম্যাটো, শিম, মুলা, পালংশাক, লালশাকসহ হরেকরকম সবজি।

যশোর সদরের সাতমাইল এলাকার কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, বছরের শুরুতে বৃষ্টি আতঙ্ক তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি বেশি হয়নি। সে কারণে এবছর জমিতে সবজির ফলন বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে। বাজারে তাই ভালো দামের আশা করছেন তিনি।

নোঙ্গরপুর গ্রামের ইসমাঈল মোল্লা বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে বাঁধাকপি লাগিয়েছি। ফলন দেখছি ভালোই হয়েছে। আশা করছি এ বছর সবজি বিক্রি করে বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।

নোঙ্গরপুর গ্রামের রুহুল আমিন বলেন, আমরা শীতের সবজি চাষ শুরু করেছি। তবে সবসময় দাম ভালো পাওয়া যায় না। তাই শীতের আগাম সবজি চাষ করেছি। তবে সারাবছর ভালো দামে বিক্রি করতে চাই।

উপসহকারী কৃষি অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলে শীত আসার অনেক আগে থেকেই আগাম সবজির চাষ করেন কৃষকরা। কিছুটা বেশি লাভের আশায় নিবিড় শ্রম দিচ্ছেন তারা। আর কিছুদিন পরে মাঠে মাঠে সবজির সমাহার হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সুশান্ত দাস তরফদার বলেন, যশোর অঞ্চলে সারাবছরই সবজি চাষ হয়ে থাকে। এবছর শীতকালে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, সবজি চাষকে লাভজনক করতে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।