আজ আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
সারাবিশ্বে শকুনকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের ১ম সপ্তাহের শনিবার আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস পালিত হচ্ছে। সূত্রে জানা গেছে, রেমা কালেঙ্গায় শকুনের কিছু অস্তিত্ব থাকলেও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে নেই কোনো শকুন।
বাংলাদেশে ছয় প্রজাতির শকুনের মধ্যে বাংলা শকুনটিই কোনোমতে টিকে আছে। দেশীয় প্রজাতির বাংলা শকুনের ইংরেজি নাম White-rumped vulture।
গবেষকদের মতে, গত দুই দশকে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ শকুন হারিয়ে গেছে। বর্তমানে শকুন মহাবিপন্নের তালিকায়। দেশে যে কয়েকটি শকুন আছে তাদের বেশিরভাগ সুন্দরবন এলাকায় এবং কয়েকটি দল হবিগঞ্জের রেমা কালেঙ্গা এলাকায় রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর সিলেটের রেমা-কালেঙ্গা ও সুন্দরবনকে সেফ জোন ঘোষণা করে।
সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালে বট, পাকুড়, অশ্বত্থ, ডুমুর প্রভৃতি বিশালাকার গাছে এরা বাসা বাঁধে। গবেষকদের তথ্য মতে, সারাবিশ্বে প্রায় ১৮ প্রজাতির শকুন দেখা যায়। দেশে ছয় প্রজাতির মধ্যে দুই প্রজাতি স্থায়ী আর অন্যরা পরিযায়ী। বাংলা শকুনের বৈজ্ঞানিক নাম জেপস বেঙ্গালেনসিস।
বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএন-এর যৌথ উদ্যোগে শকুন সংরক্ষণে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আইইউসিএন-এর তথ্য মতে, ২০১৪ সন থেকে এ পর্যন্ত মনিটরিং এ শকুন কমেনি। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাটে রেমা কালেঙ্গায় আশি থেকে শতাধিক শকুন রয়েছে। গত বছরে ৯টি বাচ্চা দিয়েছে। তাছাড়া এর আগেও ১৬টি বাচ্চা ফুটিয়েছে।
বন বিভাগের হবিগঞ্জস্থ বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে এখানে ১৫৬টির ওপরে শকুন রয়েছে। উঁচু গাছের ওপরে নেট বসিয়ে দেওয়ায় শকুন সেখানে বাসা বাঁধছে এবং বর্তমানে নতুন বাচ্চাও দেখা যাচ্ছে।
আইইউসিএন-এর সহযোগী সংগঠন বার্ডসিলস্ট অর্গানাইজেশন উল্লেখ করেছে, কীটনাশক ও সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পানির দূষণ, খাদ্য সংকট, কবিরাজি ওষুধ তৈরিতে শকুনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার, বিমান-ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ, ইউরিক অ্যাসিডের প্রভাবে বিভিন্ন রোগ, বাসস্থানের অভাব প্রভৃতি কারণে শকুন বিলুপ্ত হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলস্থ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষণ মো. আনিসুর রহমান বলেন, লাউয়াছড়া উদ্যানে কোনো শকুন নেই। বন সংরক্ষক (কেন্দ্রীয় অঞ্চল) মনিরুল ইসলাম বলেন, শকুন সচেতনতা দিবস হিসেবে ইতিপূর্বে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও খুলনায় দিবস পালন করা হয়েছে। এ বছর কাল রবিবার ঢাকায় পালন করা হবে।
